৭০১টি প্রতিমা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার 'সবচেয়ে বড়' দুর্গাপূজা বাগেরহাটে

শিকদার বাড়ির পূজামণ্ডপ৭০১টি প্রতিমা দিয়ে তৈরি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাগেরহাটের হাকিমপুরে শিকদার বাড়িতে। আয়োজকদের দাবি, এটিই দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন। ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সোমবার থেকে শুরু হওয়া দুর্গাপূজার প্রথম লগ্ন থেকেই শিকদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের ভিড়। গত আট বছর ধরে ব্যক্তি উদ্যোগে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের শিকদার বাড়িতে এ আয়োজন করা হয়। শিকদার বাড়ির মণ্ডপে ২০১০ সালে প্রথমবার ১৫১টি প্রতিমা তৈরি করার ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সাড়া পড়ে যায়। তারপর থেকে প্রতিবছরই এই মণ্ডপে প্রতিমার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এবছর রামায়ণ,পুরাণ ও মহাভারতের নানা কাহিনি অবলম্বনে মণ্ডপে ৭০১টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিমা দেখতে আসা ভক্ত দর্শনার্থীরা বলেন, ধর্মের অনেক অজানা কাহিনি জানতে পেরে তারা অভিভূত। অনেক প্রতিমা নিয়ে করা এই মণ্ডপ দেখে তারা খুবই আনন্দ পেয়েছেন। এখানে যেন একটি অন্যরকম আমেজ বিরাজ করছে।

আয়োজক লিটন শিকদার বলেন, ‘২০১০ সালে প্রথম ১৫১টি প্রতিমা নিয়ে পূজার আয়োজন করি। ঈশ্বরের ইচ্ছায় প্রতিবছর আমি এমন আয়োজন করতে পারছি। সেই থেকে দূর্গাপূজা আসলে বাগেরহাটে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা দেখতে আসেন। পরিদর্শন বইয়ে দর্শনার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে অনুপ্রাণিত হয়ে এই মণ্ডপে প্রতিমার সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ানো হচ্ছে। এবছর ৭০১টি দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিকাল মিলিয়ে সনাতন ধর্মে কোটি কোটি দেবতা রয়েছেন। এই দেবতাদের সম্পর্কে সবাই জানেন না। সনাতন ধর্মের ব্যাপকতা কত তা সবার কাছে তুলে ধরতে আমার এই আয়োজন।’ 

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, বাগেরহাট জেলায় এবছর ৬২২টি মণ্ডপে দূর্গাপূজা হচ্ছে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। শিকদার বাড়িতে দেড় শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।