ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ ও তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের পালানো ঠেকাতে এবার বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ সদর দফতর থেকে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আমাদের কাছে মোয়াজ্জেম হোসেনের পাসপোর্ট নম্বর দেওয়া হয়েছে। আমার দফতরের সব অফিসার এ ব্যাপারে সতর্ক আছে। মোয়াজ্জেম হোসেন এ পথ দিয়ে পাসপোর্ট দেখিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করা হবে।’
ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় নুসরাতের গায়ে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের ধরতে গড়িমসির অভিযোগ উঠার পর ১০ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। এদিকে, পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১০ এপ্রিল রাতেই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত।
ওই মামলায় নুসরাতের জবানবন্দি নেওয়ার পর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা হয় ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। ওই মামলায় গত ২৭ মে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করে। নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে এপ্রিলের শুরুতে ওসি মোয়াজ্জেমকে সোনাগাজী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের রংপুর রেঞ্জে। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। এরপর আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নিয়ে ফেনী পুলিশের সঙ্গে রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলির মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম। পরে ফেনী পুলিশই ওই পরোয়ানা তামিলের কাজ শুরু করে। ওসি মোয়াজ্জেম পালিয়ে গেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলেও পরোয়ানা জারির দুইদিন পর আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ওসি মোয়াজ্জেম।
তবে গত বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, মোয়াজ্জেম হোসেন ‘দেশেই আছেন’ এবং তার ‘বাইরে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’।
আরও পড়ুন–