পুষ্টিহীনতার কারণে খুলনার ১৭ ইউনিয়নের ৭০ ভাগ শিশু খর্বাকৃতির

অপুষ্টির শিকার শিশুরাখুলনার তিনটি  উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে অপুষ্টির শিকার শিশুরা। ফলে এসব এলাকার  শিশুরা নানা সমস্যার মুখে রয়েছে। বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার এ ১৭টি ইউনিয়নে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৫০ ভাগই খর্বাকৃত (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা)। এর মধ্যে ১৮ ভাগ শিশু মারাত্মক খর্বাকৃত। আর ২৪ ভাগ শিশু মাঝারি আকারের খর্বাকৃত। ২৬ ভাগ শিশু মৃদু খর্বাকৃত। ৩০ ভাগ শিশু স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী,  মৃদু খর্বাকৃতকে হিসাবের সময় খর্বাকৃত হিসেবে ধরা হয় না।

ম্যাক্সনিউট্রিওয়াশ খুলনা জেজেএস প্রোজেক্টের আওতায় এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জরিপ কাজ সম্পন্ন করে। এ কার্যক্রমে ২ বছরের কম বয়সী ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ভাগ করে জরিপ করা হয়। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

জেজেএস খুলনার কর্মকর্তা তৌহিদা সুলতানা মাল্টিমিডিয়া জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ৪ বছর মেয়াদী এ কার্যক্রম করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীর তালিকায় ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, কিশোর-কিশোরী, প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারী মা, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারের সদস্য, নব দম্পতি, বিধাব ও ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। ১৭টি ইউনিয়নের ৮২ হাজার ৫৯৯টি খানায় ৬ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৯ জন মানুষ রয়েছে। এখানে ৩৯১টি স্কুলও রয়েছে।

তিনি জানান, অপুষ্টি ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যা অসচেতনতা ও পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে সৃষ্টি। এ সমস্যা সমাধানে পুষ্টি জ্ঞান সঠিকভাবে জানানো, সচেনতা সৃষ্টির কাজ চলছে। আর সমস্যার উন্নীত হচ্ছে কিনা  তা মনিটরিংয়ের জন্য ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি মাসে ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করা হয়। আর ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি ৩ মাসে ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করা হয়।