ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনায় ৩,৪৪০টি ঘর বিধ্বস্ত এবং ৭৪০টি ঘের ও পুকুরে পানি ঢুকে মাছ ভেসে গেছে। দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ ও কয়রা উপজেলা ঘূর্ণিঝড় মনিটরিং কেন্দ্রের কর্মকর্তা জাফর রানা এ কথা জানান।
এরমধ্যে দাকোপ উপজেলায় ১৭৬৫টি ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত ও ৭৪০টি ঘের ও পুকুরে পানি ঢুকে মাছ ভেসে গেছে। গাছাপালা উপড়ে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জানান, ৩১৫টি চিংড়ি ঘের ও ৪২৫টি পুকুর ভেসে গেছে। বাড়ি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রচুর গাছপালা ভেঙে ও উপরে পড়েছে।
অন্যদিকে কয়রা উপজেলায় ১৭ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সড়কে ওপর গাছপালা উপড়ে পড়েছে।
কয়রা উপজেলা ঘূর্ণিঝড় মনিটরিং কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর রানা জানান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে কয়রার কোথাও লোকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে দমকা বাতাসের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টি ঝরিয়ে মূলত নিম্নচাপ ক্রমশ দুর্বল হবে। রবিবার (১০ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে খুবই দুর্বল হয়ে খুলনার স্থলভাগ অতিক্রম করে দেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানান, বুলবুল এখন আর ঘূর্ণিঝড় নেই। এটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তাই দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হচ্ছে। তবে উপকূলীয় জেলায় এখনও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। জোয়ারে পানি বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড সাতক্ষীরা উপকূল
ভোরে উপকূল অতিক্রম করেছে বুলবুল