পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেটাতে তৃতীয় দফায় সময় নিলেন প্রতিমন্ত্রী




পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনরাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে আরও একদফা সময় নিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে সময় দেওয়া হয়। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৮ ডিসেম্বর প্রতিটি মিলে গেট সভা করে ২৯ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন শুরু করবেন শ্রমিকরা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান তৃতীয় দফায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়ে বলেছেন, এরমধ্যে পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশনসহ ১১ দফা বাস্তবায়ন না হলে যেকোনও আন্দোলন হলে তার আর কোনও বক্তব্য থাকবে না।

খুলনার প্লাটিনাম জুট মিল সিবিএ’র সভাপতি সাহানা শারমিন জানান, ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন পাটকলের সামনে অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে শ্রমিকরা অনশন স্থগিত করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেন। এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সিবিএ-নন সিবিএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে শ্রম প্রতিমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেন। কথা ছিল এর মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পাটকল শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। এ অবস্থায় রবিবার রাতে সিবিএ নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের বৈঠকে ফের সময় দেওয়া হলো।

খালিশপুর জুট মিল সিবিএর সভাপতি আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধের পর ঢাকায় সিবিএ-নন সিবিএ নেতাদের বৈঠকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফের সময় দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মজুরি কমিশনসহ অন্যান্য দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৮ ডিসেম্বর গেট মিটিং করে ২৯ ডিসেম্বর সকাল থেকে আমরণ অনশন শুরু করা হবে।

শ্রম অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সব মিলের হিসাব নেওয়া হয়েছে। এতে করে সব পাওনা পরিশোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী নিজেই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভম্বর ১১ দফা দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। গত ২৫ নভেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। আর ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আমরণ অনশন। অনশনের চতুর্থ দিন ১৩ ডিসেম্বর মিল এলাকায় ছিল উত্তাপ আর তীব্র উত্তজনা। অনশনে অসুস্থ হয়ে ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মৃত শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের জানাজা ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্লাটিনাম জুট মিল গেটে বিআইডিসি সড়কে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় নিয়ে দাফন করা হয়। আমরণ অনশনের চারদিনে ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হন। ১৩ ডিসেম্বর রাতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নেতারা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং গভীর রাতে অনশন ৩ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক আন্দোলনে পাটকল অচল