মনোয়ারা বলেন, ‘আমি বিভিন্ন বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করি। এই দুধ মাগুরা নতুন বাজারে নিয়ে বিক্রি করি। তাতে কেজিতে ১০ টাকা করে লাভ হয়। দিনে ৫০ কেজি দুধ বিক্রি করলেই আমার ৫০০ টাকা লাভ থাকে। এভাবে মাসে ১৫ হাজার টাকা অনায়াসেই আয় করতে পারি। দুধ বিক্রির কাজ আমার সকালেই শেষ হয়ে যায়। বাকি সময় কাটে ছাগল পালন করে। উপজেলা প্রশাসন থেকে অনুদান পেয়ে তিনটি ছাগল কিনেছিলাম যা ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে নিজের টাকায় কেনা ছয়টি ছাগল রয়েছে। যা সামনে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারব।’
মনোয়ারা গর্ব করে বলেন, ‘এখন আমি স্বাবলম্বী। মানুষের দরজায় দরজায় আর ভিক্ষা করা লাগে না। এখন কেউই আর আমাকে ভিক্ষুক বলে না।’
মাগুরা রোভা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কাজী কামরুজ্জামান বলেন, ‘মনোয়ারাকে অনুদান দেওয়ার পর আমরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখি। দুধ বিক্রি থেকে ছাগল পালন সবক্ষেত্রে তার দেখাশোনা করছি। সবচেয়ে ভালো লাগে এই ভেবে যে, সে অতি সহজেই ভিক্ষুক থেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।’
মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমরা মাগুরাকে ভিক্ষুক মুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করেছি। মনোয়ারা শুধু মাগুরা নয় আমাদের সমাজের একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত।’