এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী মনিটরিং অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর বাগেরহাট জেলার ৩৩৩টি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটির জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৪৩টি, কচুয়ায় ৪৮টি, ফকিরহাট ১৪টি, মোল্লাহাট ৪২টি, চিতলমারী ৪০টি, মোরেলগঞ্জ ৬০টি, শরণখোলা ৪৪টি, রামপাল ২৮টি ও মোংলায় ১৪টি। স্বল্প সময়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান।
বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকাও তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।’
সরেজমিনে বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এসব অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের অনেকটাই ধসে পড়া। দেয়ালের আস্তর খসে সৃষ্টি হয়েছে ছোট ছোট গর্ত।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার হেড়মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার রিয়া জানায়, তাদের ক্লাসে থাকতে ভয় করে। যেকোনও সময় তাদের গায়ের ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়তে পারে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই বিদ্যালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আগেও একাধিকবার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই রকম পরিবেশে পাঠদান করাও অনেক কষ্টের।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খান জালাল আহম্মেদ বলেন, ‘অভিভাবকদের অনেক বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে হয়। তারপরও আতঙ্কে থাকি, কখন ছাদ বা দেয়াল ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাবেরী হালদার জানান, চাকরির কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ভাঙা ভবনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান করতে হয়। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে এসে পুনরায় বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা নেই। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘১৯৯৪ সালে এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন করা হয়। তখন থেকে এই ভবনের পাঠদান করে আসছেন তিনি। এখন ভবনটি পরিত্যক্ত হলেও নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না।’