এলাকাবাসী জানান, এলাকার বাসিন্দা কোহিনুর বেগমের পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামী ১০ বছর ধরে কোনও কাজ করতে পারেন না। প্রায় দুই বছর আগে ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান কোহিনুরের নামে একটি ভিজিডি কার্ড করে চাল দিতে চান। এ জন্য তিনি কহিনুরের কাছ থেকে দুই হাজার টাকাও নেন। পরে তার নামে কার্ড হয়নি জানিয়ে তিনি টাকা ফেরত দিয়ে দেন।
সম্প্রতি তিনি পুরনো একটি কার্ড কোহিনুরকে দেন, যেখানে ১৫ মাসের চাল ওঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাফর আহমেদ বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর রহমান কোহিনুরকে কার্ড করে দেবে বলে ঘুরিয়েছে। এ জন্য সে টাকাও নিয়েছে। পরে সে টাকা ফেরত দিয়ে বলেছে, কার্ড হবে না। এখন করোনার কারণে কার্ড না থাকায় কোহিনুর গ্রামবাসীর কাছে বিষয়টি জানালে ইউনিয়ন বোর্ড থেকে জানা যায়, কোহিনুরের নামে কার্ড আছে এবং গত ১৫ মাস ধরে এ কার্ডে চাল তোলা হচ্ছে।'
কোহিনুর বলেন, 'আব্দুর রহমান কয়েকদিন আগে আমার নামে ১৫ মাস চাল ওঠানো একটি ভিজিডি কার্ড দিয়ে বলেছেন, তুমি এবারের মতো আমাকে বাঁচাও। সামনের বছর তোমাকে আবারও কার্ড করে দেবো। চার আনাও লাগবে না।'
ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান চাল আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'যে চাল নিয়েছিলাম তা ফেরত দিয়ে দেবো।'
রাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, 'অভিযোগ সত্য। সাধারণত পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমেই পরিষদের সচিব এসব কার্ড করেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও দেখছেন।'
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ এসেছে। শুধু এটা নয়, আমরা সব ইউনিয়নে কার্ড বিতরণ কীভাবে হয়েছে, তার তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে ওই ইউপি সদস্যের বিরূদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'