কেশবপুর পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা: দুর্ভোগে এলাকাবাসী

কেশবপুর পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা (ছবি সংগৃহীত)কয়েকদিন টানা বৃষ্টিতে যশোরের কেশবপুর পৌরসভার ১, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা। এতে করে সেখানকার নাগরিকদের দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। 

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আইয়ুব খান জানান, তার এলাকায় ১০-১৫টি বাড়ির উঠানে এবং কিছু কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে। মানুষজন দৈনন্দিন কাজে অসুবিধায় পড়েছেন। পানি দ্রুত নিষ্কাশনে তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

স্থানীয়রা জানান, কেশবপুর পৌর এলাকার পাশ দিয়ে হরিহর নদ প্রবাহিত হয়েছে। এখানকার পানি এই নদের মাধ্যমেই নিষ্কাশিত হয়। সম্প্রতি নদে বাঁধ দিয়ে সংস্কার কাজ শুরু হলেও এই সময়ে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে। একদিকে নদের পানি, অপরদিকে কয়েকদিন লাগাতার বৃষ্টির কারণে পানি বের হতে না পারায় মূলত এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

কেশবপুর পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা (ছবি সংগৃহীত)৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার খান বলেন, 'আমার ওয়ার্ডের দু'টি পাড়ায় কমবেশি ৩০টি বাড়িতে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি রাস্তা। এছাড়া ১ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড—যেগুলো নদীর ধার ঘেঁষা, সেখানেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পাউবোর বাঁধ ও খনন কাজ না হওয়ায় পানি সরতে পারছে না। আমি পাউবোর প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি, উনারা বলছেন- খুব শিগগিরই এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।'

পাউবোর কেশবপুর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্সী আছাদ উল্লাহ বলেন, 'কেশবপুর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে হরিহর নদ খননের প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২১ সালের জুন পর্যন্ত। এখন বাঁধ কাটা হলে প্রকল্পের কাজ দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।' 

তিনি বলেন, ‘শনিবার (২০ জুন) সকালে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী, কেশবপুর পৌরসভার মেয়রসহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা চেষ্টা করছি, বিকল্প উপায়ে আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন করার।' ওই সময় পর্যন্ত নাগরিকদের কষ্ট সহ্য করার অনুরোধ জানান তিনি।