অনুমোদনহীন খোঁয়াড় মালিকের দাবি করা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোসলেম শেখ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ কৃষক। ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (২০ মার্চ) সকাল পৌনে ১০ টার দিকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত কৃষকের স্ত্রী আমেনা খাতুন বলেন, জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগে সদর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে তারই প্রতিবেশী নজরুল শেখ গত ১০ মার্চ দুপুরে দুটি বাচ্চাসহ তাদের একটি রামছাগল কালাম শেখের খোঁয়াড়ে দিয়ে আসেন। খবর পেয়ে তার স্বামী মোসলেম শেখ ছাগল ফিরিয়ে আনতে গেলে কালাম শেখ এক হাজার টাকা দাবি করেন। গ্রামের কয়েকজনের থেকে ৩০০ টাকা ধার করে আবার খোঁয়াড়ে যান। কিন্তু পুরো টাকা নিয়ে যেতে না পারায় খোঁয়াড় মালিক তার স্বামীকে গলাধাক্কা দিয়ে ও মারধর করে ফিরিয়ে দেন। সেখান থেকে ফিরে এসে মোসলেম শেখ বাড়ির পেছনের বাগানে গলায় ফাঁস নেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় আমেনা খাতুন স্বামীকে নিয়ে ফিরে আসেন মাগুরায়। তার স্বামী মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক সফিউর রহমান বলেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
বিষয়টি নিয়ে ধর্মদাহ গ্রামের তথাকথিত সরকারি অনুমোদনবিহীন খোঁয়াড় মালিক কালাম শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোসলেম শেখকে লাঞ্ছিত ও মারধর করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। আর সরকারি অনুমোদন না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের সহযোগিতায় খোঁয়াড়ের কার্যক্রম চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে কালাম শেখের খোঁয়াড় বিষয়ে ইউপি সচিব আবদুস সালাম বলেন, খোঁয়াড় নিয়ে অনেক বাদ-বিবাদের ঘটনা ঘটায় ওই গ্রামে কাউকে কোনও ইজারা দেওয়া হয়নি। অথচ অবৈধভাবে কালাম শেখসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র অন্যের গবাদিপশু আটকে রেখে জোরপূর্বক ইচ্ছা মাফিক টাকা আদায় করে যাচ্ছে বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন বলেন, নিহত কৃষকের স্ত্রী আমেনা খাতুনের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।