খুলনা বিভাগের করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে অক্সিজেনের চাহিদা। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের খুলনার ডিপো ইনচার্জ সজীব রায়হান জানান, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অক্সিজেনের চাহিদা দ্বিগুণ হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেশি থাকে। কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দিয়ে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। তবে খুলনায় সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপে ভর্তির সুযোগ না থাকায় বাড়িতে রেখেই অনেককে অক্সিজেন দিতে বলা হচ্ছে। এ কারণে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে।
সজীব রায়হান বলেন, ‘করোনাকালে অক্সিজেনের দ্বিগুণ চাহিদা বেড়েছে। আগে ১ দশমিক ৩৬ কিউবিক মিটারের ছোট সিলিন্ডার অক্সিজেনের প্রতিদিন চাহিদা ছিল ২শ’টি। এখন বেড়ে ৪শ’টি হয়েছে। আর ৬ দশমিক ৮ কিউবিক মিটারের বড় সিলিন্ডারের চাহিদা ছিল ২শ’টি থেকে আড়াইশ’টি। এখন তা প্রয়োজন হচ্ছে ৪শ’টি।’
তিনি বলেন, ‘খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জে লিকুইড ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা কমলেও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও সাধারণ জনগণ কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা বাড়ছে।’ কেউ অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত করলে সিলিন্ডারের সংকটের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খুলনা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সবশেষ তথ্যমতে, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৬ দিনে খুলনা নগর ও জেলা মিলিয়ে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৮১৮ জনের। এর মধ্যে নগরে শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৩৪৬ জনের আর নয়টি উপজেলায় শনাক্ত হয়েছে ৪৭২ জনের। এই হিসাবে জুনের ১৬ দিনে জেলার মোট শনাক্তের প্রায় ৭৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ নগরে এবং ২৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ উপজেলার রোগী। এই সময়ে জেলায় করোনায় সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়া ২৩ জনের মধ্যে নগরের ১১ জন এবং উপজেলার ১২ জন রয়েছেন। জেলায় এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২২৬ জন।