খুলনা জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আগামী ৬ নভেম্বর। ১৫ বছর পর হওয়া সম্মেলন ঘিরে মহানগরজুড়ে সাজ সাজ রব। ফেস্টুন, বিলবোর্ড, ব্যানার, দলীয় ও জাতীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে নগর। প্রধান প্রধান সড়কে নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ। সর্বত্র উৎসবের আমেজ।
সম্মেলন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলনের মাধ্যমে আসবে নতুন নেতৃত্ব। এবার তরুণরা নেতৃত্বে আসবেন, এমনটি বলছেন তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ জন্য আলোচনায় এগিয়ে তরুণ নেতারা।
খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
১৫ বছর পর হতে যাওয়া সম্মেলনে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মীর বরকত আলী ও এম এ নাসিম। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসাদুজ্জামান রাসেল ও আহমেদ ফিরোজ ইব্রাহীম তন্ময়।
অন্যদিকে, ১৮ বছর হতে যাওয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন সাবেক যুবলীগ নেতা মো. মোতালেব হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করীম রেজা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিধান চন্দ্র রায়। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ভুলু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এবং আজিজুর রহমান রাসেল।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শেখ আসাদুজ্জামান রাসেল বলেন, সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সামনে সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচন। নেতৃত্বে এমন লোক আসা উচিত, যাদের নেতৃত্বে দল নির্বাচনে জয়ী হবে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমি তৃণমূলের প্রার্থী। সংগঠনকে সাজাবো বলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছি। ছাত্রলীগের দায়িত্ব নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আওয়ামী লীগ করায় আমার পরিবার জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় নির্যাতিত হয়েছে। দলের কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছি।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রাসেল ভুলু বলেন, বাবা ছিলেন শ্রমিকনেতা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি বাবার আবেগ, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ২০০২-২০০৩ সালে জামায়াত-বিএনপির অত্যাচারে খালিশপুরের সব মিল-কারখানা যখন বন্ধ হয়, তখন আমার বাবা শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। কাফনের কাপড় পরে শরীরে কেরোসিন ঢেলে শ্রমিকদের দাবি আদায় করেন। আমি দীর্ঘদিন জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপালন করেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে বিরামহীন রাজপথে থেকেছি। আমার বিশ্বাস, দায়িত্ব পেলে খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগকে মডেল সংগঠন হিসেবে উপহার দিতে পারবো।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে জেলা ও ২০০৬ সালে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ওই কমিটি দিয়ে চলছিল কার্যক্রম।