খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার পাশ থেকে ময়ুর ব্রিজ পর্যন্ত ৭৮০ মিটার সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে শত শত যাত্রীবাহী পরিবহন ও মালবাহী ট্রাক যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অবশেষে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদামাটিসহ ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। গর্তের ওপর দিয়ে যাতায়াতের সময় অটোরিকশা, ইজিবাইক, মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এ অবস্থায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে প্রাথমিকভাবে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার পাশ থেকে ময়ুর ব্রিজ পর্যন্ত ৭৮০ মিটার সড়ক সংস্কার শুরু করেছে কেডিএ। ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কারের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠিয়েছে কেডিএ।
কেডিএ’র চেয়ারম্যান এসএম মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘২০২১ সালে খুলনা সিটি বাইপাস সড়কের ২১৬০ মিটারের ময়ুর ব্রিজের পর থেকে জয় বাংলা মোড় পর্যন্ত ১৩৮০ মিটার সড়ক সংস্কার করেছে এলজিআরডি। কিন্তু সিটি করপোরেশন অনিচ্ছা প্রকাশ করায় ময়ুর ব্রিজ থেকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পর্যন্ত ৭৮০ মিটার সংস্কার হচ্ছিল না। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আমরা সড়কটি সংস্কার করছি। এছাড়া সড়ক উন্নয়নের জন্য বড় প্রকল্প গ্রহণ করে একনেকে পাঠিয়েছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু খাঁ বলেন, ‘আমি আরাফাত নগরের ভেতরে থাকি। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে আমাদের বাসায় যেতে এবং বের হতে অনেক পথ ঘুরে শহরে যেতে হয়। রোগী কিংবা বৃদ্ধরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারেন না। সড়কের অবস্থা বেহাল।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে সড়কের বেহাল দশার কারণে। সড়কটি সংস্কার হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা আলোর মুখ দেখবে।’
খুলনার কলেজছাত্র মঈন উদ্দীন বলেন, ‘প্রতিদিন কলেজে যেতে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বর্ষা মৌসুমে সড়ক ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়। এখন সংস্কার হলে বর্ষা মৌসুমে আমাদের ভোগান্তি কমবে।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র নিয়েছে। আমরা ওই সড়ক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছি।’
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘খুলনা সিটি বাইপাস সড়ককে কেন্দ্র করে শহরের বাইরে একটি উপশহর গড়ে উঠেছে। সেখানে প্রচুর মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বসবাস করছেন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে আমি কেডিএকে সড়ক সংস্কারের জন্য ডিও লেটার দিয়েছি। সেই ডিও লেটার অনুযায়ী কেডিএ সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে খুলনা সিটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে কেডিএ। যদিও সড়ক নির্মাণের এক বছরের মাথায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। আট-নয় বছরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সিটি বাইপাস সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সাধারণ মানুষ। নগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান পথ হওয়ায় সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হওয়া পরিবহনগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
কিন্তু খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ২০১৫ সালে সড়কটি নির্মাণের পর ২১৬০ মিটার সড়কের মধ্যে ১৩৮০ মিটার অর্থাৎ ময়ুর ব্রিজের পর থেকে জয় বাংলার মোড় পর্যন্ত সংস্কারের জন্য এলজিআরডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। আর ময়ুর ব্রিজের আগ থেকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পর্যন্ত ৭৮০ মিটার খুলনা সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে তালুকদার আব্দুল খালেক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সড়কের দায়িত্ব নিতে চাননি।
এ অবস্থায় ২০২১ সালের শেষ থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ময়ুর ব্রিজের পর থেকে জয় বাংলার মোড় পর্যন্ত ১৩৮০ মিটার সড়ক সংস্কার করে এলজিআরডি। ময়ুর ব্রিজের আগ থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৭৮০ মিটার বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকে। এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ দূর করতে স্থানীয়রা ব্যক্তি উদ্যোগে সড়ক সংস্কার করে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। তারপর আবারও সড়ক বেহাল হয়ে পড়ায় খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল সড়কটি সংস্কারের জন্য খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ডিও লেটার দেন। এরপর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।