চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ৫

বাগেরহাটের মোংলায় চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় মোতাহার সরদার নিহতের ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল হালিম শেখ (৩৭), মান্নান হাওলাদারের ছেলে হোসাইন হাওলাদার (২০), সারোয়ার শেখের ছেলে আসমাউল শেখ (২০), হাফিজুর হাওলাদারের ছেলে রুবেল হাওলাদার (২৭) ও হাসেম শেখের ছেলে সারোয়ার শেখ।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষের হামলায় উপজেলার বকুলতলা এলাকার মোতাহার সরদার (৪২) নিহত হন। এ ঘটনায় ওই এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ শেখকে প্রধান করে ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের ভাই মো. কাদের সরদার।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামে ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ শেখ ও তার সহযোগীদের হামলায় মোতাহার সরদার নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ছয় জন গুরুতর আহত হন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মোংলা থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামে চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ শেখের সঙ্গে মোতাহার সরদারসহ কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিংড়ি ঘেরটি দখল নিতে এসে আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীরা মোতাহার সরদারসহ তার লোকজনের ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড, রামদা ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মোতাহার সরদার, শুকুর আলী শেখ, আলাউদ্দিন শেখ, রিয়াজুল শেখ, অহিদুল শেখ, তৌহিদুল শেখ ও তানজু শেখকে আহত করেন। 

ওই দিন রাতেই আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খুলনা মেডিক্যালে নেওয়ার পর রাত ১০টার দিকে মোতাহার সরদারের মৃত্যু হয়।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই কাদের সরদার ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ শেখসহ ২১ জনের নামে মামলা করেন। মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।