বড় ভাইকে খুন করে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে হাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে যশোরের বিরামপুর এলাকার মোফাসা নামে এক ব্যক্তির ১০ তলা ভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
হাফিজুর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রেফতার মৃত মুজিবর মাস্টারের ছেলে ও বড় ভাই ফজলুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এডিশনাল এসপি আনোয়ার সাঈদ জানান, পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের সূত্র ধরে মঙ্গলবার দুপুরে বড় ভাই ছোট ভাইয়ের দোকানে যায়। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাফিজুর রহমান ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর রেডি পাসপোর্টে আসামি হাফিজুর রহমান ভারতে পালানোর জন্য যশোরে তার এক বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপন করে।
তিনি জানান, ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেফতারে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। অবশেষে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের চারটি টিম এই অভিযানে অংশ নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হাফিজুর রহমান রহমান পুলিশকে জানিয়েছে, জমি দখল আর পৈত্রিক জমির বণ্টন নিয়ে মিথ্যা অপবাদ শুনতে শুনতে তিনি অতিষ্ট হয়ে পড়েন। ঘটনার দিনও তার হোমিও দোকানে এসে বড় ভাই এমন অপবাদ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি রাগ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ছুরি দিয়ে হামলা চালান।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রহিম মোল্লা জানান, ফজলুর রহমান নিহতের ১০ ঘণ্টা পর প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলো পুলিশ। এ ছাড়া যে ছুরি দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে আসাদুজ্জামান টিপু বাদি হয়ে চাচা হাফিজুর রহমান ও চাচি লাইলাতুন্নেছা তোতাকে আসামি করে মামলা করেন।