বেনাপোল থানার গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০০১ সালে ৫ এপ্রিল তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বন্দরসহ বেনাপোল, বাহাদুরপুর ও পুটখালি ইউনিয়ন নিয়ে বেনাপোল বন্দর থানা উদ্বোধন করেন। তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রথম শ্রেণির বেনাপোল পৌরসভা। কিন্তু নিজস্ব জমি ও ভবন না থাকায় বন্দর এলাকার ভেতরে একটি পরিত্যক্ত দ্বিতল ভবনে শুরু হয়েছিল বন্দর থানার কার্যক্রম। এখনও তাই চলছে।
একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নে ১ লাখ ৫০ হাজার লোকের বাস। থানার গুরুত্ব বাড়ায় এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দুইজন ইন্সপেক্টর, আট জন সাব-ইন্সপেক্টর, পাঁচজন সহকারী সাব- ইন্সপেক্টর, ৯ জন নারীসহ ৩৯ জন পুরুষ সিপাহী। পরিত্যক্ত ভবনটির দ্বিতীয় তলায় টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি হয়েছে পুলিশ ব্যারাক। ঋতুবিশেষে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী। গ্রীষ্মে খরতাপ, বর্ষায় পানি আর শীতে কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া।
সংকট ঘনীভূত হয় বর্ষাকালে। ফুটো ছাদ ও দেয়াল বেয়ে পড়া বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয় পুলিশের পোশাক পরিচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। থানার ভেতরে হাঁটুপানি জমে থাকে। এছাড়া ব্যারাকে যথেষ্ট জায়গা না থাকায় গাদাগাদি করে থাকতে হয় সিপাহীদের। অনেকেই উঠেছেন ভাড়া করা বাড়িতে। এমন ক্ষেত্রে দুরাবস্থা বেশি পোহাতে হয় নারী সিপাহীদের। সেইসঙ্গে পুরুষ ও নারীদের জন্য নেই আলাদা গারদখানা। একই টয়লেট ব্যবহার করেন পুলিশ ও আসামি উভয়েই।
কথা হয় বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ থানার নিজস্ব কোনও কার্যালয় ও পুলিশ ব্যারাক না থাকায় আমি নিজেও থাকি ভাড়া করা বাড়িতে। থানার অন্য অফিসাররাও বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এতে কাজে খারাপ প্রভাব পড়ে।
তিনি জানান,ছোট আঁচড়া বাইপাস সড়কের পাশে এক একর জমির ওপর থানার স্থান ঠিক করা হলেও কোনও টাকা বরাদ্দ না থাকার কারণে জমিটিতে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
/এইচকে/এসএম/