৭ বছর পর কোলজুড়ে এলো পাঁচ সন্তান, বাঁচলো না কেউ

বিয়ের সাত বছর পর গৃহবধূ তাহমিনা বেগমের (২২) কোলজুড়ে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান আসে। কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সবাই চলে গেছে। অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় তাদের বাঁচানো যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। তাহমিনা বেগম যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুর এলাকার বিষহরি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী। পাঁচ নবজাতকের এমন মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তাহমিনার শাশুড়ি খালেদা খাতুন বলেন, ‌‘বিয়ের সাত বছর পর আমার পুত্রবধু ছয় মাস আগে গর্ভবর্তী হয়। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ ব্যথা উঠলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনার পথে গাড়িতেই একটি সন্তানের জন্ম হয়। হাসপাতালে আনার পর দুপুরে পরপর আরও চারটি সন্তান প্রসব করে। পরে বাচ্চাগুলো অপুষ্ট হওয়ায় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এক ঘণ্টার ব্যবধানে সব বাচ্চা মারা গেছে। আমার ছেলে চার মাস আগে মালয়েশিয়া গেছে। দূর পরবাসে পাঁচ সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে অনেক কষ্ট পাচ্ছে।’

হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স আয়েশা বেগম জানান, হাসপাতালে আনার আগে একটি ও পরে স্বাভাবিকভাবে চারটি শিশু প্রসব করেন তাহমিনা বেগম। তাদের মধ্যে তিনটি মেয়ে ও দুটি ছেলেশিশু ছিল। পরে বাচ্চাসহ মাকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। নবজাতকদের সাড়ে ৩টায় ভর্তি করা হয়। ভর্তির আধাঘণ্টা পর একটি, ৪৫ মিনিট পর আরও একটি এবং দশ-পনেরো মিনেটের ব্যবধানে অন্য বাচ্চাগুলো মারা যায়।’

শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক জসিম উদ্দিন জানান, ২৮ সপ্তাহের পরে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে মেডিক্যাল সাপোর্ট দিলে নবজাতক বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ওই পাঁচ নবজাতক ২৪ সপ্তাহে জন্মেছিল। এই সময়ে জন্মে নেওয়া শিশুর ওজন কমসহ পরিপূর্ণ পর্যায়ে থাকে না। এ জন্য তাদের মেডিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার পরও বাঁচানো যায়নি।