মোটরসাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট বেলাল

কিছু দিন আগে চাকরি পেয়েছিলেন বেলাল হোসেন (২৪)। এর আগে স্থানীয় একটি মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। নতুন অফিসে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করবেন ভেবেছিলেন বেলাল। কিন্তু চালাতে পারতেন না। শেখার জন্য এক মসজিদের ইমামের কাছ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন। একজনের সহায়তায় আজ সকালে মোটরসাইকেল চালানো শিখছিলেন। এ সময় বাসচাপায় দুই জনই মারা গেছেন।

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় খুলনা শহরের হরিণটানা থানার হোগলাডাঙ্গা প্রগতি স্কুলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত আরেকজনের নাম শরিফুল ইসলাম (২৩)। ঘটনার পর ঘণ্টাখানেক খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন এলাকাবাসী।

বেলাল হোসেন হরিণটানা থানার রাজবাঁধ এলাকার মো. মোস্তফার ছেলে। তিনি রাজবাঁধ আয়েশাবাদ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। হাফেজ শরিফুল ইসলাম বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার উত্তর কুমারিয়া জোলা গ্রামের কাওছার হোসেনের ছেলে। তিনি রাজবাঁধ নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

আরও পড়ুন: বাসচাপায় প্রাণ গেলো মাদ্রাসাশিক্ষকসহ ২ জনের

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকালে একটি ট্রাক খুলনা থেকে সাতক্ষীরার দিকে যাচ্ছিলো। সেই ট্রাকের পাশ কাটাতে গিয়ে একটি বাস সড়কের পাশে চলে এসে মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এ সময় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী পড়ে যান। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেল ও হেলমেট ভেঙে চুরমার হয়ে যায়

স্থানীয়রা জানান, বেলাল ও শরিফুল রাজবাঁধের ভেতর থেকে মোটরসাইকেলে প্রধান সড়কে উঠছিলেন। টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস সাতক্ষীরা থেকে খুলনার দিকে আসছিল। এ সময় বাসটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এরপর বাস চালিয়ে দ্রুত চলে যান চালক।

খুলনা শহরের আয়েশা জামে মসজিদের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু দিন আগে নতুন একটি চাকরি পান বেলাল হোসেন। অফিসে যাতায়াতের জন্য আজ সকালে মোটরসাইকেল চালানো শিখতে বের হন। শরিফুলের পেছরেন বসেছিলেন বেলাল। বাসের চাপায় ‍দুই জনই মারা গেছেন।’

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটি আটক করা যায়নি। ঘটনার পর সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।