মোংলা বন্দরে ১০২টি দামি গাড়ি নিলামের অপেক্ষায়

মোংলা বন্দরে আমদানি হওয়া ১০২টি গাড়ি নিলামে তোলা হচ্ছে। আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়ায় গাড়িগুলো নিলামে তুলছে মোংলা কাস্টমস হাউস। আগামী ৪ অক্টোবর এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সড়কপথে স্বল্প সময় ও খরচে ঢাকায় নিয়ে আসার সুযোগ থাকায় মোংলা দিয়ে গাড়ি আমদানি বাড়ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে আমদানি হওয়া গাড়ির ৬০ ভাগ মোংলা দিয়ে এসেছে। আর গত ৩ মাসেও এ বন্দর হয়ে আমদানি হয়েছে আরও প্রায় দেড় হাজার গাড়ি।

১০২টি গাড়ি নিলামের বিষেয়ে মোংলা কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বাসার সিদ্দিকী জানান, সঠিক সময়ে গাড়ি ডেলিভারি না নেওয়ায় গাড়িগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে। নিলামে উঠছে নিশান ও টয়োটা ব্র্যান্ডের কার, হাইয়েস, নোয়া, অ্যালিয়ন, প্রাডোসহ বিভিন্ন মডেলের গাড়ি ও ১০টি অন্যান্য আমদানিপণ্য। আগ্রহীরা অনলাইন ও সিল করা টেন্ডারের মাধ্যমে নিলামে অংশ নিতে পারবেন। 

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে ই-অকশন ও মোংলা কাস্টমসের ওয়েবসাইটে নিলামের পণ্যের মূল্যসহ ক্যাটালগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২ থেকে ৪ অক্টোবর ই-অকশনের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে নিলামে অংশ নিতে পারবেন আগ্রহীরা। তবে অনলাইনে অংশ নিতে দরপত্র কেনার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘সিল্ড টেন্ডারের ক্ষেত্রে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ২০০ টাকা অফেরতযোগ্য দরপত্র কেনা যাবে। ৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মোংলা, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাখা বাক্সে দরপত্র জমা দিতে হবে। উভয়ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ জামানতসহ দরপত্র জমা দিতে হবে।’ ১১ অক্টোবর সকাল ১০টায় মোংলা কাস্টমসে দরপত্র খোলা হবে বলে জানান তিনি। 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা এ সব গাড়ি ৩০ দিনের মধ্যে ছাড়িয়ে নেওয়ার নিয়ম। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তা করেননি। তাই নিয়মানুযায়ী নিলামে ওঠানো হচ্ছে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতার তালিকা প্রকাশের পর গাড়িগুলো বিক্রি করা হয়।

মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান বলেন, মোংলা কাস্টমসের মোট রাজস্ব আয়ের শতকরা ৫২ শতাংশ আমদানি করা গাড়ির শুল্ক থেকে আসে। দীর্ঘদিন আমদানি করা গাড়ি বন্দরে পড়ে থাকলে অন্যান্য পণ্য রাখায় সমস্যা তৈরি হয়। 

এদিকে মোংলা বন্দরের উপসচিব (বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ) মো. মাকরুজ্জামান বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোট ৩৪ হাজার ৭৮৩টি গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর দিয়ে এসেছে ২০ হাজার ৮০৮টি, যা দেশে মোট আমদানির শতকরা ৬০ ভাগ। চলতি অর্থবছরেও এ বন্দর দিয়ে প্রায় দেড় হাজারের মতো গাড়ি এসেছে।

মোংলা দিয়ে গাড়ি আমদানি বাড়ার বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, আমদানিকারকদের বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বন্দর থেকে গাড়ি খালাস, আমদানি হওয়া গাড়ি রাখার জন্য উন্নতমানের শেড ও ইয়ার্ড নির্মাণ এবং গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে সার্বক্ষণিক টহল ও সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং ব্যবস্থায় আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়ে গাড়ি আনতে উৎসাহিত হয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, সময় এবং অর্থ সাশ্রয় হওয়ার কারণে আমদানিকারকরা এই বন্দরকে বেছে নিয়েছেন। এখন পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আরও সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা গাড়ি আমদানি করে দ্রুতই এখান থেকে সড়কপথে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় গাড়ি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারছেন। এতে তারা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন। সড়ক ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় গাড়ি আমদানি বৃদ্ধিসহ এ বন্দরে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারবিডা) সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে আমাদের ব্যবসায়ীদের আমদানি করা শতাধিক গাড়ি মোংলা বন্দর দিয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। সেতু চালু হওয়ায় এই বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানির আগ্রহ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
 
জানা গেছে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। সেখানে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার। এ কারণে একটি গাড়ি বন্দর থেকে খালাসের পর খুবই কম সময়ে ও স্বল্প খরচে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়।