ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আতঙ্কে গতরাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন উপকূলবাসী। আঘাত হেনে ঘূর্ণিঝড়টি এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাটের আকাশে দেখা মিলেছে সূর্যের। বৃষ্টিও কমে গেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে উপকূলবাসীর মাঝে। ইতোমধ্যে বাগেরহাটে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ৭৩ হাজার ২০০ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। স্বাভাবিক হয়েছে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম।
তবে আতঙ্ক কেটে গেলেও বাগেরহাটে কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে সিত্রাং। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর ফসল। মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় কোটি টাকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলার সুগন্ধি গ্রামের কৃষক নিমাই কুন্ডু জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডবে তার ক্ষেতের চালকুমড়া, মরিচ ও বেগুনের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, সিত্রাংয়ের প্রভাবে জেলার ৮৫০ হেক্টর আমন ধান, সবজি ৩৭৫ হেক্টর, কলা ১১০ হেক্টর, পান ১৭ হেক্টর, পেঁপে ৭ হেক্টর, মরিচ ২০ হেক্টর ও ৬ হেক্টর সবজি বীজতলা আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জেলায় মৎস্য খাতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।
মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মাদ শাহীন মজিদ জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব কেটে যাওয়ায় সকাল থেকে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ায় ৭৩ হাজার ২০০ জন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। জেলায় হতাহতের কোনও খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।