স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘একাত্তরে যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি তারা এখন আরও বেশি সংগঠিত। বর্তমান সরকারকে বিব্রত ও মহান স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকালে মেহেরপুরে মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার এসব অপশক্তি দমন করে রেখেছেন। তবে দেশি-বিদেশি প্ররোচনায় তারা প্রায় সময়ই দেশের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই সরকার, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

সাংবাদিকদের আর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন রাজাকারদের নামের তালিকা তৈরি করা হবে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেই কাজটি করার পথ খুলে গেছে।’

মুজিবনগর দিবস পালনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মন্ত্রী। এরপর শেখ হাসিনা মঞ্চের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় পুলিশ, বিজিবি, আনছার সদস্যদের গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, গালর্স গাইড, বিএনসিসি কুজকাওয়াজ প্রদর্শন করে।

এরপর বাংলাদেশ আনসার বাহিনী অর্কেস্টা দলের গীতিনাট্য প্রদর্শন করা হয়। যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস এবং পর্যায়ক্রমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে তা তুলে ধরেন আনসার আর্কেস্টা দলের শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া, একাত্তরের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের গার্ড অব অনার প্রদান বাহিনীর প্রদান আব্দুল হান্নান, মেহেরপুর পুলিশ সুপার রাফিউল আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়।

একই বছরের ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল নানা আয়োজনে মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়।