জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘সাংবিধানিক পদ্ধতিতে যেকোনও সরকারের শুরু ও শেষ আছে। সুতরাং মেয়াদ শেষ হওয়া মানে আয়ু ফুরিয়ে যাওয়া নয়। রাজনীতির মাঠে এখানে এক চুল ছাড় দেওয়া হবে না। যথাসময়ে নির্বাচনের বাইরে অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠার যেকোনও রাজনৈতিক ফর্মুলা বাংলাদেশের সংবিধান ও গণতন্ত্র বানচালের মহাচক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।’
সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামে আগুনে পোড়া ঘরবাড়ি, পানের বরজ ও ফসলি জমির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সুতরাং যারা বলে আয়ু ফুরিয়ে যাচ্ছে তারা বোঝে না মেয়াদ শেষে আবার শুরু হয়। এবারও আমাদের সরকার বা শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে। আমরা আশা করছি ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে যেভাবে শুরু করেছি, তারপরে শেষ হয়েছে ১৪ সালে। ১৪ সালে আবার শুরু করে আমরাই ক্ষমতায় ছিলাম। ১৮ সালে আমরাই ক্ষমতায় ছিলাম। আমরা আশা করছি, এবারও মেয়াদ শেষে নির্বাচনের পরে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকবে।’
জাসদ সভাপতি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনে বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি। সুতরাং যারা বিরোধী পক্ষ নির্বাচনের আগেই মনে করছেন ক্ষমতায় চলে যাবেন, সেটা তারা স্বপ্ন দেখতে পারেন।’
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। নির্বাচনের প্রস্তুতি না নিয়ে তারা তো সকাল বিকাল সরকার উৎখাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সমস্যাটা এখানে। সুতরাং তারা কি নির্বাচন চায়? নাকি সরকার উৎখাত চায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি যে অসংবিধানিক পন্থায় অস্বাভাবিক সরকার গঠনের প্রকল্প পরিকল্পনাকারীদের দাঁতভাঙা জবাব এবার দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, নির্বাচনের বাইরে যেকোনও রাজনৈতিক ফর্মুলা বাংলাদেশের গণতন্ত্র সংবিধান বানচালের চক্রান্ত। একইসঙ্গে সেখানে বলবো, ৭৫ সালে ৮২ সালে এবং ১/১১ যে রাজনৈতিক দুষ্কর্ম বাংলাদেশে ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি করার জন্য যারা অস্বাভাবিক সরকারের প্রস্তাব নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন তাদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দিন। এখানে কোনও মাফ নাই।’
এ সময় মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হারুন আর রশিদ, মিরপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম, জেলা জাসদ নেতা আহম্মদ আলী ও কারশেদ আলমসহ স্থানীয় জাসদ নেতৃবৃন্দ ও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।