খুলনা সিটি নির্বাচন

৫০ বছরের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে খালেক

এবার খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন পাঁচ জন। এর মধ্যে গত মেয়াদে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। ১৯৭৭ সাল থেকে টানা জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। ৪৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একবার ছাড়া প্রতিবারই জয়ী হয়েছেন। এবার জনপ্রতিনিধিত্বের ৫০ বছরের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি।

সোমবার (১২ জুন) ইভিএমে খুলনা সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। মেয়র পদে পাঁচ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। 

মেয়র প্রার্থীরা হলেন—আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের তালুকদার আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল আউয়াল, জাকের পার্টির গোলাপফুল প্রতীকের এসএম সাব্বির হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়ালঘড়ি প্রতীকের এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক। বিএনপি না থাকায় অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ফলে জয়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন খালেক।

নির্বাচনি প্রচারণায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৫২ সালের ১ জুন বাগেরহাটের মল্লিকেরবেড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তালুকদার আব্দুল খালেক। স্কুলজীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে খুলনায়। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭৭ সালে খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ওই বছরই ২১ বছর বয়সে খুলনা পৌরসভার মহসিনাবাদ ইউনিয়নের কমিশনার হন। এরপর মহসিনবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের খুলনা জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে খুলনা পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে রূপ নেয়। সেবার তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে কেটেছে রাজনৈতিক সময়। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন। ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য তার স্ত্রী হাবিবুন নাহার। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

২০০৮ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে হেরেছিলেন। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বাগেরহাট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয়বার মেয়র হন। বর্তমানে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক।

মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ইশতেহার ঘোষণা করছেন

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, খুলনার উন্নয়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং বিগত বছরগুলোর কাজের মূল্যায়ন করলে নগরবাসী আবারও খালেককে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।

জনসেবার ইচ্ছে থেকেই ১৯৭৭ সালে কমিশনার নির্বাচিত হয়েছি উল্লেখ করে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘তখন থেকেই নিজেকে মানবসেবায় নিয়োজিত রেখেছি। ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। সবসময় মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবেছি এবং ভাবছি।’

২১ বছর বয়সে প্রথম জনপ্রতিনিধি হয়ে দায়িত্ব পালন সহজ ছিল না জানিয়ে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় কমিশনার নির্বাচিত হই। প্রথম জনপ্রতিনিধি হয়ে দায়িত্ব পালন সহজ ছিল না। তবে দ্বিতীয়বার জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর দায়িত্ব পালন সহজ মনে হয়। তখন থেকে আর কখনও কোনও ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়নি।’

উন্নয়নের স্বার্থে মেয়র পদে নৌকা প্রতীককে জনগণ আবারও ভোট দেবেন বলে আশা রাখছেন আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাত ধরেই খুলনা সিটির আধুনিকায়ন শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের পর যে উন্নয়ন হয়েছে তা কখনও হয়নি। এরপরের পাঁচ বছর কোনও প্রকল্প নিতে পারেননি তৎকালীন মেয়র। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত আড়াই হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে। যে উন্নয়ন হচ্ছে তা দৃশ্যমান। সুন্দর শহর গড়ার স্বার্থেই জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দেবেন।’

ইতোমধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম পৌঁছে গেছে

বিগত নির্বাচনে দেওয়া ইশতেহারের সব কাজেই হাত দিয়েছি উল্লেখ করে তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘নগরীতে ১৫ তলাবিশিষ্ট সিটি সেন্টার নির্মাণে আমার ওয়াদা ছিল। সেটা নিয়ে কাজ করছি। সিটির উন্নয়নে ১৫শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে সিটি সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। ওই প্রকল্প পাস হলে সিটি সেন্টার নির্মাণকাজ শুরু হবে। এবার মেয়র হলে উন্নয়নমূলক কাজগুলো শেষ করাই প্রধান লক্ষ্য।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেন, ‘তালুকদার আব্দুল খালেক জনপ্রতিনিধিত্বের ৫০ বছর উদযাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি জনসেবার জন্য রাজনীতি করেন। খুলনা অঞ্চলের মানুষের হৃদয়পটে ছবির মতো রয়েছেন খালেক। সোমবারের নির্বাচনে জনতার রায়ে আবারও তিনি মেয়র হবেন বলে আশা রাখছি আমরা।’