ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর মামলা

বাগেরহাটে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু হানিফকে তার কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। ঘটনার চার দিন পর পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে রবিবার (১৬ জুলাই) রাতে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।

মামলায় ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১০/১২ জনকে। নাম উল্লেখ করা ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী হলেন- মারজান হাওলাদার, রাকেশ দাস, পরাগ হাওলাদার ও সুজন ইসলাম। এর মধ্যে রাকেশ বাগেরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি, মারজান একই ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, সুজন ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ও পরাগ ছাত্রলীগের নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত বুধবার (১২ জুলাই) রাতে মোহাম্মদ আবু হানিফ পাউবোর বাগেরহাট সদর উপবিভাগীয় কার্যালয়ে বসে দাফতরিক কাজ করছিলেন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নাম উল্লেখিত চার আসামিসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে ঠিকাদারি কাজের বকেয়া টাকা পাওনা আছে বলে তা পরিশোধের জন্য হুমকি দেন‌। তারা আবু হানিফের টেবিলের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে বাগেরহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন বটতলায় যেতে বলেন। তিনি যেতে না চাইলে অফিস কক্ষে তাকে মারধর করে ও জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তখন দায়িত্ব আনসার সদস্য নিত্যনন্দ ও গেট অপারেটর নাঈম বাধা দিলে তাদেরও তারা মারধর করেন। পরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে শহর রক্ষা বাঁধের বট গাছের নিচে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর তারা তাকে ঠিকাদারি বিল বকেয়া আছে উল্লেখ করে তা পরিশোধের কথা বলেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার ভয়ে আছেন। আহত আনসার সদস্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

জানা গেছে, বুধবার রাতেই বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই কর্মকর্তা। তবে তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে পুলিশ। চার দিন পর মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করে।

পাউবোর বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ছাত্রলীগ নামধারীরা মোটরসাইকেলে করে কার্যালয়ে ঢুকে উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করে ধরে নিয়ে যান। স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষী ব্যক্তিদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।

বাগেরহাট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম সেলের সমন্বয়কারী পরিদর্শক বাবুল আক্তার বলেন, চার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাগেরহাট সদর থানার মামলা রুজু হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে।