অনুশীলনের সময় ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে খুলনায় চার নারী ফুটবলারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নারী ফুটবলার মামলার বাদি সাদিয়া নাসরিন।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রাপ্তরা হলেন সালাউদ্দিন (২২), রঞ্জি বেগম (৪০) ও নুপুর খাতুন (২২)।
আহতরা হলেন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়ন দলের নারী ফুটবলার মঙ্গলী বাগচী, হাজেরা খাতুন, জুই মন্ডল এবং সাদিয়া নাসরিন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছুটা সুস্থ হয়ে রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনায় বটিয়াঘাটা থানায় মামলা করেন সাদিয়া।
খুলনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ফুটবলার সাদিয়া নাসরিন বলেন, হামলার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করায় তারা নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীন হয়ে থানায় একটি জিডি করি। তারপরও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করেনি। আর এমন অবস্থায় আসামিরা আদালতে যাওয়ার সুযোগ পায়।
বটিয়াঘাটা থানার (ওসি) শওকত কবির আসামিদের জামিনের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, মামলার চার আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অপর তিন জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। কিন্তু ১ আগস্ট বাকী ৩ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আর গ্রেফতার হওয়া নুর আলম কারাগারে রয়েছে। এখন মামলার তদন্ত কাজ চলছে। মামলার পরদিন বাদির করা জিডি নিয়েও কাজ করা হচ্ছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তেঁতুলতলা গ্রামের সাদিয়া নাসরিন খুলনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ফুটবলার। স্থানীয় ‘সুপার কুইন ফুটবল একাডেমিতে’ নিয়মিত অনুশীলন করেন। এ কারণে তাকে প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের কাছ থেকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। গত বৃহস্পতিবার একাডেমিতে অনুশীলনের সময়ে অভিযুক্ত নুপুর খাতুন তার ছবি তোলেন। পরে সেই ছবি সাদিয়ার বাবা-মাকে দেখিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করেন।
পরে এ নিয়ে সাদিয়ার বাবা-মা তাকে বকাঝকা করেন বলে অভিযোগ করেন এই ফুটবলার। তিনি মামলার অভিযোগে আরও বলেন, গত শনিবার বিকালে নুপুরের কাছে ছবি তুলে তা বাবা-মাকে দেখানোর কারণ জানতে চান সাদিয়া। বিষয়টি নিয়ে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাদিয়াকে গালিগালাজ করেন নুপুর। প্রতিবাদ করলে মারধরও করেন। পরে বিষয়টি বাবা-মা, ক্লাবের কোচ মুস্তাকুজ্জামান মুস্তাক ও অন্যান্য খেলোয়াড়কে জানান সাদিয়া।
পরে তারা সাদিয়াকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুপুরের বাড়িতে যান। এসময় নুপুরের পরিবারের লোকজন উল্টো ক্ষুব্ধ হন। পরে নুপুরের পরিবারের সালাউদ্দিন, নুর আলম ও রঞ্জি বেগম তাদের ওপর হামলা চালান। এতে সাদিয়া ও তার সহ-খেলোয়াড় মঙ্গলী, হাজেরা ও জুঁই আহত হন। হামলার সময়ে সালাউদ্দিনের লোহার রডের বাড়িতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান মঙ্গলী বাগচী। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ক্লাবের কোচ মুস্তাকুজ্জামান মুস্তাক বলেন, গুরুতর আহত হওয়া মঙ্গলীকে হাসপাতাল থেকে ২ আগস্ট ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তাকে সুপার কুইন ফুটবল একাডেমির ভাইস প্রেসিডেন্টের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।