প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে প্রেমিকার দেখা পেলেন না বিদেশি যুবক

প্রেমের টানে নিজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বাগেরহাটের মোংলায় এসে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন ভারতীয় যুবক তাপস বিশ্বাস। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে টানা এক সপ্তাহ প্রেমিকার খোঁজে ঘুরেছেন পথে পথে। প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বাংলাদেশ ছেড়েছেন।

তাপস ভারতের বর্ধমান জেলার মেমারী থানার বাসিন্দা। পেশায় সে দেশের জর্জ আদালতের আইনজীবীর সহকারী। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। তার বাবা দুলাল বিশ্বাস পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বছর খানেক আগে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার পরিচয় হয় বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে। জড়িয়ে পড়েন গভীর প্রেমে। পরিবারের সবার সঙ্গে আলাপচারিতা হতো তরুণীর। গড়ে উঠেছিল সখ্যতা। পুরো পরিবার তার আচরণে খুশি। তাই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রেমিকার খোঁজে ছুটে আসেন বাংলাদেশে। 

গত ৯ আগস্ট সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছান খুলনায়। সেখান থেকে মোংলায় এসে পথে পথে খুঁজে বেড়ান প্রেমিকাকে। ঠিকানা পেলেও তার সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান ওই তরুণী। আর এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এ যুবক। পৌর শহরের শহরতলীর বাসিন্দা ওই তরুণীর খোঁজে টানা কয়েকদিন দিন ঘুরেছেন আশপাশে। শেষ পর্যন্ত ধরনা দিয়েছেন একটি মানবাধিকার সংগঠনের কাছে। তাতেও কাজ হয়নি।

প্রেমিকার দেখা না পেয়ে ভারতীয় যুবক তাপস এক সপ্তাহ পর চরম হতাশ ও গ্লানি নিয়ে পাড়ি দেন স্বদেশের পথে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন (আসক) মোংলার সভানেত্রী সুমি লিলা জানান, প্রেমের টানে ভারত থেকে মোংলায় আসা ওই যুবক তাদের সংগঠনে এসেছিলেন। তার দাবি ছিল, একনজর প্রেমিকাকে দেখার। এ জন্য বেশ কান্নাকাটি করে। সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের সাক্ষাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।

এ বিষয় বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য (মোংলা) আব্দুল জলিল শিকদার জানান, ভারতীয় যুবক তাপস বিশ্বাস বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু তার প্রেমিকা তাকে অস্বীকার করে। পরে সে নিজ দেশে ফিরে গেছে।