ইবিতে শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে ছাত্রলীগ কর্মীদের মারামারি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে শাখা ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষার্থী অপর এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২০ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতক্ষ্যদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আলোচনা সভা চলাকালে মিলনায়তনে ঢুকতে গিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় আইন বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ ও জিয়া হলের শিক্ষার্থী শামীম ও শেখ রাসেল হলের শিক্ষার্থী ও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আশিক কোরাইশির মধ্যে। পরে এ ঘটনার জেরে আলোচনা সভা শেষে মিলনায়তনের বাইরে এসে ফের উভয়ের মাঝে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে জিয়া হল ও রাসেল হলের ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে মারামারির সূত্রপাত হয়। এতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুফতাইন আহমেদ সাবিকের হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। ব্যবস্থাপনা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের আকিব ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানা গেছে। পরে সাবিককে ইবি চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

এদিকে সাবিক ছুরিকাঘাতের বিষয়টি গোপন করছেন। যদিও ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ছুরিকাঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে সাবিক বলেন, কিছু সংখ্যক ছেলে মারামারি করছিল। এ সময় আমি তাদের ঠেকাতে গিয়ে আমগাছের ডাল লেগে কেটে গেছে। আমি এর বেশি আর বলতে চাচ্ছি না।

আকিব ছুরিকাঘাতের বিষয়টি ভিত্তিহীন দাবি করে নিজেও মার খেয়েছেন বলে অভিযোগ করে বলেন, আলোচনা সভা শেষে বাহিরে দেখি হুলুস্থুল অবস্থা বিরাজ করছে। পরে রাসেল হলের ছেলেরা আমাকেও মারধর করে আমার হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই সময় আমার জামা-কাপড়ও ছিঁড়ে ফেলা হয়। ছুরিকাঘাতের বিষয়টি ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

আইন বিভাগের শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, আজ ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অতিথিদের নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে যাই৷ এ সময় খবর আসে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী প্রক্টরদের ঘটনাস্থল এবং চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। খুব দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, আলোচনা সভা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এরপর যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খুবই দুঃখজনক। আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে রবিবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের আয়োজনে 'মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব' শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ 

এ সময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৩ এর সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

 বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-১ এর সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঝিনাইদহ জেলার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই। সম্মানিত অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়াসহ অনেকে।