খুলনা জোড়াগেট কোরবানি পশুর হাটে এবার ৭ দিনে ৬ হাজার ২২৭টি পশু বিক্রি হয়েছে। যা থেকে হাসিল হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে। ২০২৩ সালে ৬ হাজার ২০টি পশু বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ৯৬২ টাকা। ২০২২ সালে ৭ দিনে ছয় হাজার ৭৬০টি পশু বিক্রি থেকে আয় ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৫ টাকা। কেসিসি পরিচালিত এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তবে ২০২৩ সালের চেয়ে এ বছর ২০৭টি পশু বিক্রি বেশি হয়েছে। আর হাসিল আদায় ৪ লাখ টাকা বেড়েছে।
এ হাটে ২০২০ সালে ৫ দিনে ছয় হাজার ১৬৯টি পশু বিক্রি থেকে হাসিল আদায় ছিল ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। করোনা মহামারির কারণে ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে এক হাজার ৬৩৬টি পশু বিক্রি কম হয়েছিল। আর হাসিল আদায় কমেছিল ৪৪ লাখ টাকা। আর ২০১৮ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে ৭৭৩টি পশু বিক্রি বেড়ে হাসিল আদায় বেড়েছিল ৪২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
কেসিসির কোরবানির পশুর হাটের সুপারভাইজার এম এ মাজেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাটে বেচাকেনা শেষ ২ দিনেই বাড়ে। কিন্তু এ বছর শেষ ২ দিনই আবহাওয়া ভালো ছিল। ফলে কোরবানির পশু বেচাকেনায় সমস্যা হয়নি। আর এ কারণে হাটে আসা লোকজন নির্বিঘ্নে হাসিল দিয়েছেন। ফলে হাসিল আদায় বেড়েছে।
তিনি বলেন, গত ১০ জুন থেকে এ হাটে বেচা বিক্রি শুরু হয়। ১৭ জুন ভোর রাত ৪টায় এ হাটে বেচাকেনা শেষ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে হাটে ছয় হাজার ২২৭টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৬০টি গরু, ২ হাজার ১৪৩টি ছাগল, ১২২টি ভেড়া ও ২টি মহিষ। এ থেকে কেসিসি হাসিল হিসেবে পেয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে ৬ হাজার ২০টি পশু বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ৯৬২ টাকা।
২০২২ সালে ৭ দিনে ছয় হাজার ৭৬০টি পশু বিক্রি থেকে হাসিল আদায় ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৫ টাকা। ২০২১ সালে এ হাটে ছয় হাজার ৯৪০টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ২৮০টি গরু, এক হাজার ৬৩০টি ছাগল ও ২১টি অন্যান্য। এ থেকে কেসিসি হাসিল হিসেবে পেয়েছে ২ কোটি ৪৩ হাজার ৪৫ টাকা। ২০২০ সালে ছয় হাজার ১৬৯টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে চার হাজার ৭৭২টি গরু, এক হাজার ৩৬০টি ছাগল ও ৩৬টি অন্যান্য। এ থেকে কেসিসি হাসিল হিসেবে পেয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭ টাকা। ২০১৯ সালে এ হাটে ৭৮০৫টি পশু বিক্রি হয়। এর মধ্যে ছিল ৬১৪৪টি গরু, ১৬৫৬টি ছাগল ও ৫টি ভেড়া। এ থেকে কেসিসি হাসিল হিসেবে পেয়েছিল ২ কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ৯৫৫ টাকা। ২০১৮ সালে হাসিল আদায় হয়েছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮১ টাকা। পশু বিক্রি হয়েছিল ৭ হাজার ৩২টি। এর মধ্যে গরু ৫ হাজার ৩৮২টি ও ছাগল ১ হাজার ৬৪২টি বিক্রি হয়। ২০১৭ সালে হাসিল আদায় হয় ২ কোটি ১০ লাখ ৩০ হাজার ৩৪৩ টাকা। পশু বিক্রি হয় ৮ হাজার ৪০৩টি। এর মধ্যে গরু ছিল ৬ হাজার ৭৩৭টি, ছাগল ১ হাজার ৬৫৭টি আর ভেড়া ৫টি।
উল্লেখ্য, কোরবানির পশুর কেনাবেচার জন্য প্রতি বছর নগরীর জোড়াগেট পাইকারি কাঁচা বাজারে পশুর হাট বসায় কেসিসি। আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাট পরিচালনা করতো। ২০০৯ সালে এ হাট থেকে কেসিসির আয় ছিল ৪৭ লাখ টাকা। ২০১১ সাল থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাট পরিচালনার উদ্যোগ নেয় কেসিসি। সেই থেকে এ হাটের মাধ্যমে কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে কেসিসি। ২০১১ সালে আয়ের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭১ টাকা। বিক্রি হয়েছিল ৮ হাজার ৩৯৬টি পশু। ২০১২ সালে হাট থেকে ৭ হাজার ৬২৯টি পশু বিক্রি থেকে আয় হয় ১ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৮ টাকা। ২০১৩ সালে হাটে ৮ হাজার ৮৯১টি পশু বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ২৬ লাখ ৬ হাজার ৫১৮ টাকা। ২০১৪ সালে পশুর হাটে ১০ হাজার ১৫৫টি পশু বিক্রি হয়েছে। রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৫ সালে হাসিল আদায় হয় ১ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৩০ টাকা। ওই বছর পশু বিক্রি হয় ৯ হাজার ৩২৪টি, এর মধ্যে গরু ছিল ৭ হাজার ৯০৮টি, ছাগল ছিল ১ হাজার ৪১৬টি। ২০১৬ সালে হাসিল আদায় হয় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৩ টাকা। ওই বছর পশু বিক্রি হয় ৯ হাজার ২৪৪টি, এর মধ্যে গরু ছিল ৭ হাজার ৬২৭টি, ছাগল ছিল ১ হাজার ৬১২টি ও ভেড়া ছিল ৫টি।