বিক্ষোভের মুখে অফিস ছাড়লেন যশোর পৌর মেয়র, অবাঞ্ছিত ঘোষণা

যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনী খান পলাশকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সাধারণ জনগণ। রবিবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে যশোর পৌরসভার পৌর ভবনের সামনে পাঁচ শতাধিক বিক্ষুব্ধ সাধারণ জনতা অবস্থান নেন। এরপর মেয়রের দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নানারকম স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পৌরসভার অফিস কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান মেয়র।

মেয়র পৌরসভা কার্যালয় ত্যাগ করে বেরিয়ে গেলে, ‘পালাইছেরে পালাইছে, মেয়র সাহেব পালাইছে’ এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পৌরসভা চত্বর।

বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, হায়দার গনী খান পলাশ যশোর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে যশোরের সড়ক এবং জনগণের জীবনমানের কোনও উন্নয়ন হয়নি। দুর্নীতি এবং লুটপাটের আখড়া তৈরি হয়েছে যশোর পৌরসভা। প্রতি বছর অধিক পরিমাণে পৌর কর পরিশোধ করতে হয়। বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলতেও টাকা দিতে হয় পৌর কর্মচারীদের। এমনকি পৌরসভা থেকে নাগরিক সুবিধা পেতে নানারকম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষদের। টাকা না দিলে অনেক সময় জন্মনিবন্ধন সেবাও মেলে না। প্রতি বছর যে পরিমাণে পৌর কর দেওয়া হয়, সেই তুলনায় সুবিধা পান না পৌর নাগরিকরা।

বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, মেয়র তার নিজের এলাকার রাস্তাঘাট ড্রেনের উন্নয়ন করেছেন। বিগত বছরগুলোতে যশোরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতাসহ বেহালদশা দেখা দিলেও এমন দুর্ভোগ থেকে সাধারণ জনগণকে মুক্তি দিতে পারেননি। বিক্ষুব্ধরা পৌরসভার মেয়রসহ বিভিন্ন কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনী খান পলাশকে ফোন দিলে তিনি বলেন, যা করেছে তা হয়েছে, এখন আর কথা বলে লাভ নেই। এই কথা বলার পরপরই তিনি লাইন কেটে দেন।