১৪ নভেম্বর শুরু দুবলারচরে রাস উৎসব, হ‌চ্ছে না রাস‌মেলা

আগামী ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিন পূর্ণিমা তিথিতে সুন্দরবনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের দুবলারচরে শুরু হ‌বে ঐতিহ্যবাহী রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নান। তবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এবারও পুণ্যার্থী ছাড়া অন্য কেউ ওই সময় সুন্দরবনে ভ্রমণ করতে পারবেন না। এ ছাড়া এবারও উৎসবকে কেন্দ্র করে হচ্ছে না রাসমেলা। ২০২১ সাল থেকে রাসমেলা বন্ধ রয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) এসব তথ্য জানিয়েছেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো।

বন বিভাগ জানিয়েছে, তিথি অনুযায়ী ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত—তিন দিনব্যাপী দুবলারচরের আলোর কোল এলাকায় রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবকে কেন্দ্র ক‌রে সুন্দরবন উপকূলজুড়ে নেওয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। এ সময় অন্যান্য বন্য প্রাণী শিকার বন্ধে বন‌ বিভাগ ও আইন প্রয়োগকা‌রী সংস্থাগু‌লোও বাড়‌তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নি‌য়ে‌ছে। দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জন্য সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ পাঁচটি পথ নির্ধারণ করেছে। এসব পথে বন বিভাগ, পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল দল তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাসমেলা এবারও হচ্ছে না। রাস পূর্ণিমা পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে দুবলার চরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বন বিভাগের পাস পারমিট পাবেন। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। তবে বন বিভাগের নির্দেশনা মানতে হবে।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজা ও পুণ্যস্নানে তীর্থযাত্রীরা লঞ্চ, ট্রলার, স্পিডবোট ও নৌকাযোগে গমন করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনুমোদিত পাঁচটি পথ হলো—বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলানদী-বলনদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী হয়ে দুবলার চর। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা-শিবসা নদী-মরজাত হয়ে দুবলার চর। নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর। ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর এবং বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর।

দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর তিন দিনের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে। প্রবেশের সময় অ্যান্ট্রি পয়েন্টে লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকার প্রবেশ ফি, অবস্থান ফি এবং লোকের সংখ্যা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক রাজস্ব আদায়পূর্বক পাশ দেওয়া হবে। অনুমতি পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিসহ তীর্থযাত্রীদের আবেদন করতে হবে। প্রতিটি অনুমতিপত্রে সিল মেরে পথ/রুট উল্লেখ করা হবে। তীর্থযাত্রীরা পছন্দমতো একটি রুট ব্যবহার করতে পারবেন। ১৪ নভেম্বর দিনের ভাটায় যাত্রা শুরু করতে হবে। তবে শুধু দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবেন। বন বিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া কোথাও লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকা থামানো যাবে না। ট্রলারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইভ জ্যাকেট বা বয়া সংরক্ষণ করতে হবে।

বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, ‘রাসমেলার প্রস্তুতি নিয়ে কেউ দুবলার চরে যেতে পারবেন না। গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলার অনুমতি নেই। কেবল রাস পূজা ও স্নানের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অনুমতি পাবেন। তীর্থযাত্রীদের বন বিভাগের নিদের্শনা মেনে চলতে হবে।’