বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রতারকের খপ্পরে পড়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মারা গেছেন

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত শনিবার ভারতে যাওয়ার সময় প্রতারকের খপ্পরে পড়ে চিকিৎসার টাকা খোয়ান ঢাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনোজ কুমার কর। পরে ১৩ হাজার টাকা পুলিশ উদ্ধার করে দিলে ওই নিয়েই ভারতে যান। এর দুই দিন পর মঙ্গলবার কলকাতায় মারা যান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে মনোজ করের মরদেহ নিয়ে তার মেয়ে অবন্তী কর বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

মারা যাওয়া মনোজ কুমার কর ঢাকা কদমতলীর সারই মসজিদ সড়কের ধানিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, ভারতে চিকিৎসা করাতে গত শনিবার মেয়েকে নিয়ে বেনাপোল বন্দরে যান মনোজ কর। ভারতে যাওয়ার আগে পাঁচ প্রতারক পরিবহন স্টাফ পরিচয় দিয়ে ইমিগ্রেশনের পাশে নিয়ে তাদের জিম্মি করেন। পরে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় মনোজ কুমার করের মেয়ে অবন্তী কর বেনাপোল বন্দর থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আট জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শার্শা উপজেলার বড় আঁচড়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে শোয়েব আক্তার, জাবের শেখের ছেলে শেখ রাহাদ অন্তর এবং ইউসুফ আলীর ছেলে আবদুল কাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে ১৩ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। সব টাকা ফেরত না পাওয়ায় ভারতে চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে শিক্ষক মনোজ করের। ওই টাকা নিয়েই তিনি ভারতে যান। চিকিৎসা খরচ বহনের দুশ্চিন্তার মধ্যে দুই দিন পরই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ২৪ ডিসেম্বর কলকাতায় মারা যান। আজ বাবার মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরে চেকপোস্ট এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ জানান তার মেয়ে অবন্তী কর।

বন্দর প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) আবদুল হাফিজ বলেন, ‘মনোজ কুমারের মরদেহ আজ তার মেয়ে দেশে ফেরত এনেছেন। ২১ ডিসেম্বর প্রতারক চক্রের কবলে পড়ে তারা চিকিৎসার ৩৫ হাজার টাকা খোয়ান। পরে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে ১৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ওই টাকা নিয়ে তারা ভারতে চিকিৎসা করতে যান। চিকিৎসার দুশ্চিন্তা করতে করতে তিনি মারা গেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল মিয়া বলেন, ‘একটি চক্র প্রতারণাকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। এর আগে তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে তারা জামিন নিয়ে ফিরে এসে আবার চাঁদাবাজি শুরু করে। গত দুই মাসে দুটি ঘটনায় এমন ২৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’