খুলনায় জয় বাংলা মোড় থেকে ধাওয়া করে ১২ কিলোমিটার দূরে কুদির বটতলায় গিয়ে ট্রাকসহ ডাকাতদলের ২ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। ট্রাকটি রূপসা সেতুর টোল প্লাজা ভেঙে পালাচ্ছিল। তাদের হেফাজত থেকে চাপাতিসহ দেশীয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলো বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকার বরকত আলীর ছেলে ইয়াদ আলী (৩২) এবং বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ঢুলিগাতি এলাকার মৃত এসকেন শেখের ছেলে মিজান শেখ ওরফে সুমন (৩৫)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু। তিনি বলেন, ‘আটকদের হেফাজত থেকে ৪টি রামদা, ১টি কাটার, ১টি চাপাতি, ১টি লোহার পাইপ, ২টি রড জব্দ করা হয়েছে।’
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ময়ূর ব্রিজের পূর্ব পাশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশ ট্রাকটিকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় তারা (ডাকাত) দ্রুত পালিয়ে যেতে চায়। ট্রাক থেকে লাফিয়ে পড়া ইয়াদ আলীকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ ট্রাকটির পিছু নেয়। তখন ট্রাকটি জয় বাংলার মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট, রূপসা সেতু হয়ে কুদির বটতলায় পৌঁছে। পুলিশ সেখান থেকে ট্রাকটি জব্দ করে। এ সময় ডাকাতদলের আরও এক সদস্য মিজান শেখ ওরফে সুমনকে আটক করে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, একটি ট্রাকে করে ডাকাতির প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের একটি টিম ময়ূর ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে একটি ট্রাকের গতিরোধের চেষ্টা করে। তবে ট্রাকটি না থামিয়ে দ্রুত চালিয়ে যায়। এ সময় তাদের একজন লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ ট্রাকের পিছু নেয়। ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চালিয়ে যায়। এরপর ট্রাকটি জয় বাংলার মোড় হয়ে রূপসা ব্রিজের টোলপ্লাজা ভেঙে চলে যাচ্ছিল। পরে রূপসা কুদির বটতলা এলাকায় ট্রাকটিকে আটকানো হয়। এ সময় আরও একজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে লোহার রডসহ ডাকাতির জন্য ব্যবহার করা হয় এমন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।’