খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অর্ণব কুমার সরকার হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় নিহতের বাবা নিতিশ কুমার সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এর আগে, শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের সান্ধ্যকালীন ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ণবকে নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাই বলেন, ‘নিহত অর্ণবের বাবা অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, ঘটনার দিন অর্ণব রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের ঘিরে ফেলে। তখন অর্ণব তাদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, 'আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।’ এ কথা বলার পর একজন সন্ত্রাসী বলে, ‘তুই তো ওই গ্রুপের সদস্য।’ এ কথা বলামাত্র শটগান দিয়ে গুলি করে ওই সন্ত্রাসী। তারপর স্থানীয় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পরপর আরও ৩ রাউন্ড গুলি করা হয়। শটগানের একটি ও পিস্তলের তিন রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। হত্যা মিশনে ৭ সন্ত্রাসী ছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ মাফলার দিয়ে ঢাকা ছিল। তাদের একজনের হাতে শটগান ও বাকিদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। হত্যাকারীরা গুলি ও কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে মোটরসাইকেলে করে ওই স্থান ত্যাগ করে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো: মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, ‘আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ৪টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- চাঁদাবাজি, প্রেমঘটিত বিষয়, বাবার কনস্ট্রাকশন ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং।’ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানতে তদন্তের স্বার্থে রাতভর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিন জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সামনের দিকে নিয়ে যাবে পুলিশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর অনেকগুলো ডালপালা বের হয়। কিন্তু কেউ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে না। অনেকে বলেছেন নিহত অর্ণব খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর “বি কোম্পানির” সদস্য। কেউ বলছেন অর্ণব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আবার তার বাবার ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধ নিয়ে তথ্য দিচ্ছেন অনেকে। তা ছাড়া প্রেমঘটিত বিষয়টিও সামনে আসছে। ফলে এখনই ঘটনার নেপথ্যের কারণ বলা সম্ভব নয়। বাড়ি থেকে এক যুবক অর্ণবকে ডেকে শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে নিয়ে এসেছে বলে শুনেছি। এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে নিহত অর্ণব কেন তেঁতুলতলা মোড়ে এসেছিল, তা কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না।’
মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, ‘পুলিশের কাছে আসা প্রাথমিক তথ্য বলছে, এ হত্যা মিশনে প্রথমে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসে সন্ত্রাসীরা। এরপর আরও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। আমরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। সেগুলো দেখা হচ্ছে। প্রতক্ষ্যদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের রহস্য খুব দ্রুত উন্মোচন হবে। সন্ত্রাসীদের দমনে হোন্ডাবাহিনী, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়েছে।’