খুলনায় ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে একজন নিহত, রেল যোগাযোগ বন্ধ

খুলনা মহানগরীর আফিল গেট এলাকায় ট্রেন ও ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে হয়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম খান (৬৫) নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে। ঘটনার পর থেকে খুলনার সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

খুলনা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম খান বলেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে মহানন্দ ট্রেনটি খুলনার দিকে আসছিল। এ সময়ে একটি ট্রাক ট্রেনলাইনের ওপর উঠে যায়। এতে সংঘর্ষ হয়। গেটম্যান ওহেদুল পলাতক রয়েছে।

খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, আফিল গেট বাইপাস সড়কের রেল ক্রসিংয়ে একটি ট্রাক উঠে পড়ে স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ে খুলনার দিকে আসা ট্রেন ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয় এবং সামনের দিকে নিয়ে যায়। এতে ট্রেনের ৩টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের অনেকে আহত হন। তবে এ ঘটনায় একজন বয়স্ক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা মহানন্দা এক্সপ্রেস খুলনায় আসার পথে আফিল গেট ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা সুন্দরবন এক্সপ্রেস দেরিতে যাত্রা শুরু করবে।

রাত সাড়ে দশটার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার (ইএমও) ডা. আশরাফ হোসেন বলেন, আহত ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আনুমানিক ৬০/৬৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির মরদেহ জরুরি বিভাগে আছে। তার কাছে থাকা মোবাইলে রিং আসলে তার স্বজনরা হাসপাতালে আসার কথা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন যশোর অভয়নগরের সাদমান (৬), সেখ হাটির মারুফ (১৭), খুলনার বটিয়াঘাটার মিন্টু (৪৫), আরংঘাটার শেখ সাইদুল আজম (৫০) খালিশপুরের সোহেল (৩৪), রুপসার লাবণ্য (১৫), দৌলতপুরের বিপ্লব (২৬) ও যশোর বসুন্দিয়ার  মাহমুদ হোসেন (৪০)।