যশোরে জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) নামে এক ভেটেরিনারি ওষুধ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর স্ত্রী রেশমা খাতুন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অপহৃত জাহাঙ্গীর তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরতলী খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি শহরের শংকরপুরস্থ ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে আর আর মেডিক্যাল নামে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করে আসছিলেন। ঘটনার পর থেকে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় সময় পার করছে ভুক্তভোগী পরিবার।
থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীর সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে করে খোলাডাঙ্গা কদমতলার বাসায় ফিরছিলেন। চাঁচড়া রায়পাড়া পীরবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকারে কয়েকজন এসে গতিরোধ এবং অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরে জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত ফোন নম্বর থেকে রাত ১০টার দিকে স্ত্রীর ফোনে কল করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। না দিলে তাকে হত্যা করা হবে মর্মে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, ‘সাত বছর ধরে শংকরপুর ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন তার স্বামী। রাতে তারাবি পড়ে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন প্রতিদিন। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ইফতার নিয়ে দোকানে যান। এরপর ইফতার তারাবি পড়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। রায়পাড়া এলাকায় পৌঁচ্ছালে ছয় থেকে সাতজন গতিরোধ করে অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি সাদা প্রাইভেটকারে তোলে জাহাঙ্গীরকে। আর দুজন জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে প্রাইভেটকারের সঙ্গে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের মোবাইল নম্বর থেকে হঠাৎ কল আসে, জাহাঙ্গীর বলেন কয়েকজন আমারে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে বাঁচাতে হলে এক কোটি টাকা দেওয়া লাগবে। টাকা না দিলে আমাকে তারা খুন করবে। এতটুকু বলেই ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ রয়েছে। কোথায় কীভাবে টাকা দিতে হবে সেটা বলেনি তখন।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদের দোকানের পাশেই আমেনা ফার্মেসি নামে আরেকটা ভেটেরিনারির দোকান রয়েছে। মার্কেট মালিক ইউসুফের সঙ্গে দোকানটির মালিক শাহ আলমের ডিট সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ হয়। এরপর ইউসুফ শাহ আলমের দোকানটি আমার স্বামীর কাছে ভাড়া দেন। দুটি দোকান একসঙ্গে বড় করে আমার স্বামী ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এরপর থেকে শাহ আলম আর আমার স্বামীর সঙ্গে নানা বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর আগেও প্রাইভেটকারে আমার স্বামীকে চাপা দিয়ে হত্যার করার চেষ্টাও করা হয়। ফলে আমরা ধারণা করছি, ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে এ অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে।’
কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী এখন কোথায়; কী অবস্থায় রয়েছে সেটা জানি না। ঘটনার পর থেকে আমি আমার তিন মেয়েকে নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় সময় পার করছি। প্রশাসনের কাছে আবেদন, জীবিত ও সুস্থ শরীরে আমার স্বামীকে ফেরত চাই।’
এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে আমরা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করতে পারবো।’