তৃতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: ‘গ্রাম্য ডাক্তার’ আটক 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ধর্ষণের অভিযোগে আত্তাব হোসেন (৬০) নামে এক গ্রাম্য ডাক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। আটক আত্তাব হোসেন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী তার অসুস্থ দাদির জন্য ওষুধ আনতে ডাক্তার আত্তাবের চেম্বারে যায়। এসময় দোকানে বা আশেপাশে কেউ না থাকার সুযোগে আত্তাব হোসেন শিশুটিকে কৌশলে ঘরের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

মেয়েটি বাড়ি ফেরার পর তার অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশুটি মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খোলসা করে। এসময় তার মা শিশুটির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হতে দেখে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিক আত্তাব ডাক্তারের দোকান ঘেরাও করে তাকে আটকে রাখে। এনিয়ে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত আত্তাবকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সময়ে পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক আলামত পরীক্ষা করে মনে হচ্ছে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে আরও নিশ্চিত হওয়া এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার (স্থানান্তর) করা হয়েছে। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”