ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা আবারও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কোন দল বেশি ভালো এ নিয়ে চলছে তুমুল বাগবিতণ্ডা। একে অন্যকে কটাক্ষ করতেও ভুলছেন না। মাঠে বল গড়ানোর আগেই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সমর্থনে এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে যশোরের বাঘারপাড়া। ঢাক-ঢোল আর বাদ্যযন্ত্রের তালে রাস্তাঘাট কাঁপালেন ব্রাজিলের কয়েকশ সমর্থক। নেচে-গেয়ে পুরো শহর জুড়ে শোডাউন করেন সেলেসাও ভক্তরা। জানান দেন নিজেদের শক্তিমত্তা ও জনপ্রিয়তার।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর গড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল সমর্থকরা প্রিয় দলের হলুদ জার্সি পরে, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বাঁশি বাজিয়ে বাঘারপাড়া পাইলট বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে থাকেন। এসব বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে উল্লাস করেন। পরে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর সমর্থকদের উল্লাসে শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ব্রাজিলপ্রেমীদের প্রত্যাশা—এবারের আসরে ষষ্ঠবারের মতো (হেক্সা) বিশ্বকাপ জিতবে তাদের প্রিয় দল। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের করেন নানা কটাক্ষও।
সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ব্রাজিল সমর্থক বলেন, ‘ব্রাজিলের জার্সির বাম পাশে পাঁচ স্টার। আর এক দলের তিন স্টার। তিন স্টারের শুধু মুখের জোর। ফুটবলের সৌন্দর্য ব্রাজিল। পাঁচটা স্টারের ওজনে আমাদের বামপাশ ভারী হয়ে যায়। এবার ব্রাজিল হেক্সা মিশন শেষ করবে।’
তামিম নামে আরেক সমর্থক বলেন, ‘একটি দলে একজন স্টার থাকে কিন্তু ব্রাজিল দলে সবাই স্টার। ব্রাজিলের ফুলবল দলের প্রতিটা খেলোয়াড় বিশ্বের নামিদামি ক্লাবে খেলে থাকে। ব্রাজিল দলের গোলকিপারকে সবাই বলে বাজপাখি। ছোটবেলা থেকে এ দলটি সাপোর্ট করি। গত বিশ্বকাপে বিশ্ববাসীকে হতাশ করলেও এবার নান্দনিক খেলার মধ্যে দিয়ে সমর্থকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।’
অন্যদিকে পিছিয়ে নেই আলবিসেলেস্তে সমর্থকরাও। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা জানাতে বিশাল মোটরশোভাযাত্রা বের করেন তারাও। ছোট-বড় নীল-সাদা পতাকায় রঙিন হয়ে ওঠে বাঘারপাড়া পৌর শহর। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রায় এক ঘণ্টা চলে তাদের এ কর্মসূচি। এ সময় পথচারী ও দোকানিরাও তাদের সঙ্গে স্লোগানে অংশ নিতে দেখা যায়। জাদুকরী ফুটবলার মেসির সমর্থকরা এবারও বিশ্বকাপ জেতার আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি জবাব দেন ব্রাজিল সমর্থকদের কটাক্ষের।
রাকিব হোসেন নামে আর্জেন্টিনার এক সমর্থক বলেন, ‘ব্রাজিল সমর্থকরা এই রঙিন যুগে বিশ্বকাপ নিতে দেখেনি। বিশ্বকাপ শুরু হলেই বলে হেক্সা মিশন শেষ করবে। বিশ্বকাপে দেখা যায় চোখের পানি আর নাকে পানি এক করে ফেলেছে। আসলেই ব্রাজিল সমর্থকদের ওসব চাপাবাজি। আজ যখন ওরা মিছিল বের করে তখন; তাদের ‘‘সেভেন আপ’’ খাওয়াতে চেয়েছিলাম। তবে বাজারে পায়নি। ফুটবলের সৌন্দর্য হলো মেসি। আশাকরি নান্দনিক খেলার মধ্যে দিয়ে এবারও মেসির হাতে বিশ্বকাপ উঠবে এবং মেসি ভক্তরা উদযাপন করবে।’
ফয়সাল নামে আরেক সমর্থক বলেন, ‘ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসি আর্জেন্টিনার প্রাণ। ফুটবল মানে মেসি। ট্রফি আরও একবার মেসি হাতে নেবেন, এমনটাই দেখতে চাই। যারা পাঁচটা স্টার দেখে বা বাপ দাদার সম্পত্তি মনে করে দল সাপোর্ট করে; তারা কে কি বললো সেটা যায় আসে না!’