ফেসবুকসহ বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়া বড় বড় ইলিশের ছবি ও ভিডিও। চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নানা চমকপ্রদ অফার। একাধিক নারী-পুরুষের সুরেলা কণ্ঠে ক্রেতাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ইলিশ বিক্রির নিয়মকানুন বলা। ‘শুধু কুরিয়ার খরচ পাঠাবেন, এরপর হাতে ইলিশ পেয়ে দেখে পছন্দ হলে বিকাশে পেমেন্ট করবেন’- বলেই এভাবে অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নামে চলছে অভিনব প্রতারণা। কুরিয়ার খরচের কথা বলে বিকাশে হাজার হাজার টাকা খুইয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। এমন ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরার কলারোয়ায়।
ভুক্তভোগী এক গৃহিণী ও আরেক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা ফেসবুক গ্রুপ ও অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ মাছ বিক্রির চমকপ্রদ ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে উল্লেখিত (01881-310685) হোয়াটসঅ্যাপের নম্বরে ফোন দেন। ফোনের ওপাশ থেকে জানানো হয়, ককশিট, বরফ ও কুরিয়ার খরচ বাবদ ৫৫০ টাকা আগে বিকাশ করতে হবে। এরপর তারা মাছ প্যাকেটজাত করে পাঠাবে। অর্ডার করা হয় একেকটি ইলিশ মাছ দুই কেজি ওজনের হিসেবে ৪ পিস তথা ৮ কেজি। দাম পড়বে ৫ হাজার ৬০০ টাকা। যথারীতি গৃহিণী এবং ওই ব্যক্তি আলাদাভাবে বিক্রেতাদের দেওয়া (01633958752) নম্বরে বিকাশে ৫৫০ টাকা প্রথমে পাঠিয়ে দেন। পরদিন তাদের (01337451030) নম্বর থেকে ডেলিভারিম্যান পরিচয় দিয়ে জানানো হয়, মাছ আপনাদের লোকেশনের কাছাকাছি এসে গেছে, কোড নম্বর বলেন। তখন গৃহিণী এবং ওই ব্যক্তি প্রথমে অর্ডার নেওয়া ব্যক্তির ফোন নম্বরে কোড চাইলে তিনি জানান, মাছের দাম ৫ হাজার ৬০০ টাকা পাঠালে অটোমেটিক কোড চলে যাবে। সরল বিশ্বাসে তারা আবার বিকাশে ৫ হাজার ৬০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পার হলেও কোড না আসায় তারা ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিকাশের খরচ দেওয়া হয়নি বলে সার্ভারে কোড আটকে আছে। আপনারা খরচসহ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা পাঠালে কোড চলে যাবে এবং আগের দেওয়া ৫ হাজার ৬০০ টাকা ফেরত পাবেন।
ভুক্তভোগী গৃহিণী বলেন, ‘তৃতীয় দফায় ৫ হাজার ৭৫০ টাকা চাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তখন বুঝতে পেরেছি প্রতারণার শিকার হচ্ছি। এরপর অর্ডার নেওয়া ব্যক্তির মোবাইলে নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও আর টাকা ফেরত দেননি। চাঁদপুরের ইলিশ তো দূরের কথা, উল্টো টাকা হারালাম।’
এভাবেই চাঁদপুরের ইলিশ মাছ বিক্রির নামে অভিনব প্রতারণা করছে চক্রটি। আর কেউ যেন এমন প্রতারণার শিকার না হন সেজন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিকাশ কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
চাঁদপুর মাছঘাটের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক নুরুল আমিন বলেন, ‘অভিনব কায়দায় ভুয়া পেজ ব্যবহার করে ইলিশ বিক্রির প্রতারণা করছে প্রতারকরা। এসব প্রতারণা করছে দেশের অন্য জেলায় বসে এক শ্রেণির প্রতারক। তাই আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।’
জানতে চাইলে নিবন্ধনকৃত অনলাইন ইলিশ ব্যবসায়ী খোকন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা অনলাইনে ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে ইলিশ বিক্রি করি। আমাদের এখানে অনলাইনে নিবন্ধনকৃত ৭টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত। একটা শ্রেণির প্রতারক চক্র অনলাইনে দেখায় মাছের দাম অনেক কমে গেছে। তারা মানুষের কাছ থেকে মাছের টাকা নেয়। কিন্তু মাছ দেয় না। আমি অনুরোধ করব আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।’
এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তালিকাবহির্ভূত অন্যান্য অনলাইন পেজ থেকে সংশ্লিষ্টদের ইলিশ ক্রয়ের বিষয়ে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ প্রতারিত হলে আপনার নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’