এবার মেঘনায় ইলিশের জালে ধরা পড়েছে বড় বড় পাঙাশ। জাল টানতে গিয়ে জেলেদের মনে হয়েছিল ইলিশে ভরে আছে। কিন্তু জাল তোলার পর বড় বড় পাঙাশ দেখে মন ভরে যায় তাদের।
জেলেরা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ১৫ কেজি এবং সর্বনিম্ন চার কেজি ওজনের পাঙাশ উঠেছে জালে। তবে এই মাছের দাম কিছুটা কম। দাম কম হলেও আকার বড় হওয়ায় তাদের বেশ লাভ হচ্ছে।
আড়তদাররা জানিয়েছেন, রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১০০ মণের বেশি পাঙাশ এসেছে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড আড়তে। দুই তিন বছর পরপর নদীতে এ ধরনের পাঙাশ পাওয়া যায় এবং বাজারে আসে।
হিজলার জেলে আইয়ুব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোররাত পর্যন্ত দুবার নদীতে জাল ফেলি। দুবারই ইলিশের দেখা মেলেনি। তবে বড় বড় অনেকগুলো পাঙাশ পেয়েছি। একইভাবে আমাদের আশপাশে যত জেলে জাল ফেলেছিলেন সব জেলের জালে বড় বড় পাঙাশ ধরা পড়েছে।’
ভোলার চরফ্যাশনের জেলে মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘মেঘনায় জাল ফেলার তিন ঘণ্টা পর জাল তোলার জন্য টানা শুরু করলে মাছের ভারে টানা যাচ্ছিল না। আমাদের আশা ছিল জাল ভরে বড় বড় ইলিশ উঠবে। কিন্তু জাল টেনে কাছে আনার পর বড় বড় পাঙাশ দেখি। সবমিলিয়ে এক টানে অর্ধশতাধিক পাঙাশ পেলাম।’
বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার (মোকাম) নগরের পোর্ট রোডের আড়তদার জহির শিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পোর্ট রোড খালে যে কয়টি মাছের ট্রলার ভিড়েছে, সব ট্রলার ছিল পাঙাশে ভরা। আমার জানামতে রবিবার আড়তে ১০০ মণের বেশি পাঙাশ এসেছে।’
জহির সিকদার আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ ১৫ কেজি ও সর্বনিম্ন চার কেজি পাঙাশ এসেছে আড়তে। গত সপ্তাহে এসব পাঙাশের মণ ছিল ৪৫ হাজার টাকা। আজ তা বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। হিসাবে কেজি পড়েছে ৭৫০ টাকা। ইলিশের তুলনায় দাম অনেক কম। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় হঠাৎ দাম কমে গেছে। আবার সরবরাহ কমলে দাম বেড়ে যাবে।’
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য দফতরের পরিচালক কামরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, জাটকা নিধন থেকে শুরু করে মাছ ধরার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করায় ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশের উৎপাদন বেড়েছে। পাঙাশ বড় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এ কারণে বরিশালের হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ এবং ভোলার মেঘনা নদীতে বিপুল সংখ্যক বড় বড় পাঙাশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। এতে জেলেদের ভালোই লাভ হচ্ছে।
মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আসলে এখন আমাদের পাঙাশ নিয়েও চিন্তাভাবনা করতে হবে। ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ রক্ষা করা গেলে সর্বস্তরের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে দাম।’








