বাবার দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পেলেন মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ

মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে হলো একজন বাবাকে। বাবাকে কবরস্থানে সমাহিত করে বাড়ি ফেরার পথেই এলো আরেকটি মর্মান্তিক খবর। বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদার দাফন শেষে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পরিবারেরই তরুণী সদস্য মুন্নি খাতুন (২৩) আর বেঁচে নেই।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। একই দিনে পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর পূর্বপাড়া গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পুরো গ্রাম যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে স্বজন হারানোর বেদনায়। 

স্বজনরা জানান, দৌলতপুর পূর্বপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকালে মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার সকাল ১০টায় নিজ এলাকার মানিকদিয়ার কবরস্থানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তখনও কবরস্থান থেকে পুরোপুরি বাড়ি ফিরতে পারেননি। ঠিক সেই সময় ফোন আসে আরেকটি দুঃসংবাদ, মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর প্রিয় নাতনি মুন্নি খাতুন মারা গেছেন। বিয়ের আগ-মুহূর্ত পর্যন্ত মুন্নিই দাদার দেখভাল করতেন। 

স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার গভীর রাতে দাদার লাশের পাশে বসে বিলাপ করতে করতে মুন্নি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারান। পরে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন জানান, তার মেয়ের ডায়াবেটিস ছিল। কয়েক দিন আগে টাইফয়েড জ্বরও হয়েছিল। এর মধ্যে দাদার মৃত্যুতে খুব ভেঙে পড়েছিল মুন্নি। দুপুরের দিকে দাদার পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।