খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত শ্রমিকের হাজিরা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন কেসিসির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযুক্তরা হলেন– মো. ইমতিয়াজ হোসেন (মাস্টাররোল কর্মচারী—নো ওয়ার্ক, নো পে; বর্তমানে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত) এবং হিসাব সংরক্ষণকারী মো. শেখ মাসুদ আলীকে (সহকারী এস্টেট অফিসার)।
খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক খুলনা সিটি করপোরেশনে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল-ইমরানকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে গত ২৮ জুলাই বাস্তহারা বস্তি ও বাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আকস্মিক পরিদর্শন করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় শ্রমিকের হিসাব সংরক্ষণকারী সম্পত্তি শাখার সহকারী এস্টেট অফিসার মো. শেখ মাসুদ আলীর কাছে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি ৩৩ জন কাজ করছেন বলে জানান। তবে সরেজমিনে গণনা করে ২৯ জন শ্রমিক পাওয়া যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে চার জন শ্রমিকের ভুয়া হাজিরার অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
এরপর ১৩ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত অফিসিয়াল হাজিরা শিট এবং লেবার সরদারের ব্যক্তিগত নোটবুকের তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, প্রকৃত হাজিরা ও অফিসিয়াল হাজিরার মধ্যে ব্যাপক গরমিল রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুকৌশলে জালিয়াতি, অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় মো. ইমতিয়াজ হোসেন (মাস্টাররোল কর্মচারী—নো ওয়ার্ক, নো পে; বর্তমানে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত) এবং হিসাব সংরক্ষণকারী মো. শেখ মাসুদ আলীকে (সহকারী এস্টেট অফিসার) জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী কর্মসূচিতে এ ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি খুলনা সিটি করপোরেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এ অবস্থায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত শ্রমিকের হাজিরা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে নগরবাসীর দাবি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পুরো কার্যক্রম নিয়ে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হলে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।