যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ও দুপুরে যশোর-সাতক্ষীরা ও যশোর-খুলনা মহাসড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আমজেদ গাজী, একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের স্ত্রী আসিরন বিবি এবং কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের উড়োতলা এলাকায় গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক আমজেদ গাজী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা তার আত্মীয় আসিরন বিবি গুরুতর আহত হন।
আহত আসিরন বিবিকে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজন ফরহাদ মোল্যা জানান, আমজেদ গাজী তার ফুফু আসিরন বিবিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বসুন্দিয়ায় মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে মজুমদার অয়েল মিলের সামনে গড়াই পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন গুরুতর আহত হন।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজনীন নিগার জানান, বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আমজেদ গাজী মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিরন বিবির মৃত্যু হয়।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এরইমধ্যে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে কেশবপুরে বাসের চাপায় রোকেয়া বেগম (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ভবনের সামনের অংশে ঢুকে পড়ে।
যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রোকেয়া বেগম মধ্যকুল গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফজরের নামাজের পর সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন রোকেয়া। এ সময় যশোরগামী স্টার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে যাত্রীবিহীন বাসটি যশোরের দিকে যাচ্ছিল। মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে পৌঁছালে সড়কের বাঁ পাশে থাকা রোকেয়া বেগমকে বাসটি চাপা দেয়। পরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের ডান পাশে থাকা এতিমখানা ভবনের সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।
এ ঘটনায় বাসের চালকের সহকারী মানিক ফকির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে যান।
মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বাসটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। এতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী ছিল। তবে তাদের কারও কোনও ক্ষতি হয়নি।’
কেশবপুর থানার ওসি রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনও অভিযোগ করা হয়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাসটি থানা হেফাজতে রয়েছে।’