খুলনায় চুরির অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত আজমল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধরের পর ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তবে আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত করছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় তারা কর্তব্যরতদের জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আজমল আহত হয়েছেন।

হাসপাতালের ভর্তির কাগজপত্র অনুযায়ী, নিহত যুবকের নাম আজমল। তার বাবার নাম কুতব। ঠিকানা গল্লামারী, হরিণটানা, খুলনা। হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ওয়ার্ডবয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজমলকে হাসপাতালে আনার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা জানান, চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য ছিল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে চুরি করতে গিয়ে আটকের ভয়ে আজমল লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজমলের মৃত্যুর কথা জানার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে বিভিন্ন দাগ ছিল। এছাড়া তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব কারণে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি চারতলা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন, নাকি এর আগে তাকে মারধর করা হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাড়ির মালিক আবু বকর জানান, অভিযুক্তরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তারা রুমে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। নিহত আজমলকে ছাদে নিয়ে নির্যাতন করে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। আজমল নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং পাশের একটি রুমে থাকতেন।

পুলিশ জানায়, আজমল নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ওই অংশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকেন। আজমলের মৃত্যুতে ছাত্র ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য সামনে এলে আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে চুরির অভিযোগে তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করার পর লাফিয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।