খুলনায় আজমুল হত্যা মামলায় গ্রেফতার আরও দুই আসামি প্রতাপ সরকার ও তারেক হাসান রুবেল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পৃথকভাবে নেওয়া এই জবানবন্দিতে দুই জনের দেওয়া তথ্যের মিল রয়েছে।
জবানবন্দিতে তারা জানান, আজমুলের ওপর চুরির সন্দেহ ছিল। এর মধ্যেই চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনায় আসেন আজমুল। ঘটনার রাতে আজমুলকে ছাদে ডেকে নেন রিফাত, রবিন ও রুহুল। সেখানে জুস দোকানি রুবেলের আনা লাঠিতে চলে আঘাতের পর আঘাত।
বুধবার দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক ইব্রাহিম খলিল মুহিমের খাস কামরায় তারা এ জবানবন্দি দেন। এর আগে মঙ্গলবার আরেক আসামি হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেফতার চার আসামির মধ্যে তিন জনই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত আসামি তারেক হাসান রুবেল এবং প্রতাপ সরকারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আজমল ভবনের মেসে গত কয়েকদিন চুরির ঘটনা ঘটতে থাকে। মেস ম্যানেজার মেহেদীসহ আরও কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুলকে সন্দেহ করতে থাকে। মেহেদীর ট্র্যাপে পড়ে আজমুল বাড়ি থেকে খুলনায় আসে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে মেস থেকে ভাত চুরি হয়। রাত ১১টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেহেদী, খুবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী রবিন, রুহুল ও রিফাত ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় ভবনের সামনে থাকা জুস বিক্রেতা রুবেলসহ আরও কয়েকজন। জুস বিক্রেতার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে। তিন ঘণ্টা ধরে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় আসামিরা।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, এসআরবি ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া চার জন আসামির তিন জন একই তথ্য দিয়েছে। হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আসামিদের ভাষ্য শুক্রবার রাতে মেস থেকে মেহেদীর ভাত চুরি হয়। আজমুলের টেবিলের নিচ থেকে ভাতের গামলা উদ্ধার করা হয়।
ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, আজমুল হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিফাতকে মঙ্গলবার আদালতে নেওয়ার পর সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বুধবার প্রতাপ ও রুবেলকে আদালতে পাঠানো হয়। তারা দুই জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে রিফাতের তথ্যেরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। গ্রেফতার হওয়া চতুর্থ জন শেখ আসিফ থানা হাজতেই রয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে চার জনকে পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে মেসের কাউকে না জানিয়ে আরেকজনের মিল (ভাত) খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্দেহবশত আজমুলকে ধরে মারধর করার কথা জানিয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ৩ জন একই কথা জানিয়েছে। মেসের ম্যানেজার মেহেদী এখন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আজমুলের কাছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ দেওয়ার নামে টাকা দাবির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মেহেদীকে গ্রেফতার করা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে বলা সম্ভব হবে। মেহেদীকে গ্রেফতারে প্রযুক্তির সব ধরনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। তাকে পেলেই আজমুলের ওপর ক্ষোভ কোন পর্যায়ে ছিল তা জানা সম্ভব হবে। আজমুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার কারণে মেহেদীর কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, কতটা ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত তথ্য জানতে পারবে। বিষয়টি তদন্তে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।