মাদকের টাকা না পেয়ে মায়ের ওপর হামলা, ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ গেলো কাকির

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাদকের টাকা না পেয়ে মায়ের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ সময় হামলা ঠেকাতে গেলে দায়ের কোপে তার কাকি নিহত হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমেশ চন্দ্র মণ্ডলকে (৩৮) আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শ্যামনগর পৌরসভার কাঁচড়াকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুধারানী মণ্ডল (৫৮) ওই গ্রামের মধুসূদন মণ্ডলের স্ত্রী। অভিযুক্ত রমেশ মধুসূদনের ভাইপো এবং শ্রীধাম মণ্ডলের ছেলে। আহত ব্যক্তিরা হলেন রমেশের মা কমলা রানী মণ্ডল (৫০) ও মধুসূদনের ছেলে সমীর কুমার মণ্ডল।

পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, রমেশ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। বৃহস্পতিবার সকালে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি দা নিয়ে মাকে কোপাতে উদ্যত হন। এ সময় কাকি সুধারানী মণ্ডল তাকে বাধা দিতে গেলে রমেশ তার গলায় দা দিয়ে কোপ দেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে রমেশের মা কমলা রানী ও সমীর কুমারও আহত হন।

পরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সুধারানী মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। সমীর কুমারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কমলা রানী শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রমেশের এক নারী প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয় বলেন, মাদকের টাকার জন্য রমেশ প্রায়ই তার মা ও স্ত্রীকে বিরক্ত করতেন। বুধবার রাতেও এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তিনি উত্তেজিত ছিলেন।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কমলা রানী মণ্ডল ছেলের আচরণ সম্পর্কে বলেন, ছাবালের (ছেলের) মাথা খারাপ, নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি জানান, রমেশ বাড়িতে কাজকর্ম করেন না। এ নিয়ে বকাবকি করায় বুধবার রাতেও বাড়িতে ঝামেলা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়েই মা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কমলা রানীর জা সুধারানী রমেশকে থামাতে গেলে তিনি দা দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে রমেশ মণ্ডলকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।