বছরের ১০ মাসই সুপেয় পানির সংকট, প্রধানমন্ত্রীর সফরে কি মিলবে সমাধান?

ভৌগোলিক কারণে খুলনার দাকোপ উপজেলা সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল। চারপাশ নদীবেষ্টিত এ উপজেলায় বছরের ৯ থেকে ১০ মাসই নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট থাকে। লবণাক্ততা ও নিরাপদ পানির উৎসের সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে এ সংকট আরও তীব্র হয়। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দাকোপ সফর ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন উপকূলবাসী।

সুতারখালী গ্রামের মৎস্যজীবী অরশাদুল গাজী বলেন, আগে আমার মারে দেহিছি, প্রতিদিন কাঁখে কলস নিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ হাঁটে চেয়ারম্যানের বাড়ির পুকুরের পানি আনতি। এহনে সরকার আমাগে একটা তিন হাজার লিটারের পানির ট্যাংকি দিছে। এহন ওই ট্যাংকিতি আমরা বর্ষার পানি ধইরে রাহিছি খাওয়ার জন্যি। সরকার থেকে পাওয়া এ ট্যাংকি আমাগের পরিবারের নিরাপদ পানির সমাধান করেছেন।

তবে অরশাদুল গাজীর মতো সুবিধা এখনো সব পরিবারের কাছে পৌঁছায়নি। সরকারি এ ধরনের পানির ট্যাংক পাওয়ার আশায় উপকূলীয় এলাকার অসহায় মানুষকে প্রতিদিন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত ট্যাংক না থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

গুনারী গ্রামের দিনমজুর নীতিশ বাইন বলেন, আমাগে গ্রামের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো বিশুদ্ধ খাবার জলের। সরকারি ও বেসরকারিভাবে আমাগে গ্রামে কিছু ট্যাংকি পাওয়া গেছে। কিন্তু গ্রামে বসবাসরত মানুষের তুলনায় ট্যাংকি পাওয়া গেছে মেলা কম। এহনে সবার মুখে মুখে শুনতিছি, আগামী বৃহস্পতিবার ( ২২ অক্টোবর) নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসতিছেন। প্রধানমন্ত্রী আসলি এবং আমরা আমাগের খাবার পানির কষ্টের কথা তারি কাছে বললি, তিনি আমাগের খাবার পানির স্থায়ী সমাধান করবেনে বলে আমরা গ্রামবাসী আশায় বুক বাঁধিছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দাকোপের নলিয়ানে সফরের খবরে শুধু নীতিশ বাইন নন, সুপেয় পানির সংকট সমাধানের প্রত্যাশা করছেন উপকূলীয় এ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ নয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

দাকোপ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৪৩ হাজার পরিবারের বিপরীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর প্রায় ৯ হাজার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো দুই হাজারের বেশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

দাকোপ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি পুকুর খনন, পরীক্ষামূলক নলকূপ স্থাপন, পানির উৎসের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিকে পানির উৎস স্থাপনে অগ্রগতি হলেও পরিবারভিত্তিক আরও প্রকল্প প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, নতুন উদ্যোগ ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের মাধ্যমে দাকোপের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে। এ আশাতেই দিন গুনছেন উপকূলের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আমীর এজাজ খান বলেন, আমার সংসদীয় এলাকার অসহায় মানুষ নদীভাঙন আর লবণাক্ততার সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। আমার এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যা বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এ সংকট সমাধানের জন্য আমি সম্প্রতি মহান সংসদে ২০ হাজার রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপনের চাহিদা তুলে ধরেছি। আশা করছি, আগামীতে এ পানির সংকট অনেকাংশে সমাধান হবে।