এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। এ বছর বোর্ডে গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন।
তবে ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি মানতে নারাজ বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ফল বিপর্যয় নয়, বরং পরীক্ষার্থীদের খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৭০টি কলেজ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৫ হাজার ১৬৭ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৩০ হাজার ১৯১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৫ হাজার ৩১০ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ১৭ জন ছেলে ও ৮৪১ জন মেয়ে রয়েছে। মানবিক বিভাগে ২৬৮ জন ছেলে ও ৮৯৭ জন মেয়ে এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৩ জন ছেলে ও ১৩২ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ বছর শতভাগ পাস করেছে মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গত বছর এ সংখ্যা ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে, এ বছর ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০টি।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, ফল বিপর্যয় হয়নি, সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে। আমরা মূলত শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কাজ করছি। তবে ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে পাসের হার কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান এবং সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগামীকাল থেকে সাত দিনের মধ্যে তারা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে।