এক জেলায় ৯ বাহিনীর কাছে তিন শতাধিক অবৈধ অস্ত্র, কথায় কথায় গুলি

চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনা ঘটছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার, গুলি করে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। নগর ও জেলায় প্রায় প্রতিদিনই গুলির ঘটনা অহরহ ঘটছে। একটার পর একটা গুলি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ একটা খবর শুনে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, এর মধ্যে আরেকটা গুলির ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, স্কুলছাত্রী, নারী ও পথচারীরাও গুলির শিকার হচ্ছেন। যা সবার মাঝে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।

বেপরোয়া নয়টি বাহিনীর একাধিক গ্রুপ

সম্প্রতি প্রকাশ্যে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে বি-কোম্পানির নাম আসছে বারবার। বি-কোম্পানি হলো রনি চৌধুরী ওরফে ‌‘গ্রেনেড বাবুর’ নেতৃত্বাধীন একটি শীর্ষ অপরাধী চক্র। খুলনা সদর, লবণচরা ও হরিণটানা এলাকায় এই গ্রুপের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও পূর্ববিরোধের জের ধরে খুনোখুনিতে গ্রুপটি বেশি আলোচিত। এই গ্রুপের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

পাশাপাশি রয়েছে পলাশ গ্রুপ। শেখ পলাশের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এই সন্ত্রাসী গ্রুপ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এদের নাম রয়েছে। এরপরে আছে হুমা বাহিনী। হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এই বাহিনীটি পরিচালিত হয়। দৌলতপুর ও খান জাহান আলী থানা এলাকায় এদের প্রভাব রয়েছে।

সম্প্রতি হত্যা ও গুলির ঘটনায় নাম আসছে আশিক বাহিনীর। আশিকের নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রুপটি মূলত সদর ও লবণচরা থানা এলাকায় সক্রিয়। এ ছাড়া নূর আজিম বাহিনী রয়েছে। নূর আজিমের নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রুপটি সদর ও লবণচরা এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায়। পাশাপাশি টেনকি শাওন বাহিনী আছে। শাওনের নেতৃত্বে এটি সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুরে সক্রিয়। চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে তাদের নাম আসছে বারবার।

আরও আছে আরমান বাহিনী। আরমান শেখের নেতৃত্বাধীন এই বাহিনী দৌলতপুর ও খান জাহান আলী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে। শাকিল বাহিনী চলে শাকিল শেখের নেতৃত্বে। স্থানীয় অপরাধ ও সংঘাতে জড়িত। নাসিম বাহিনী চলে নাসিমুল গানীর নেতৃত্বে। গত অক্টোবর মাসে দিঘলিয়া উপজেলায় নাসিমুল নিহত হন। এখনও ওই নামেই চলছে তার বাহিনী। এ ছাড়া দীঘলিয়া, আরংঘাটা, ডুমুরিয়া, কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপসহ বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, নদীর ঘাট দখল, বালু ব্যবসা এবং চিংড়ির ঘের ও জমি দখলের দ্বন্দ্বে জড়িত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করলেও অপরাধীদের তৎপরতা থামছে না। নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে একাধিক অপরাধী গোষ্ঠী। পুলিশ বলছে, এসব বাহিনীর সদস্যদের কাছে ৩০০ অবৈধ অস্ত্র আছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবুর ‘বি কোম্পানি’ বা নবাব বাহিনী—এমন তথ্য আছে পুলিশ ও গোয়েন্দার কাছে। 

আলোচিত বি কোম্পানি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বি কোম্পানির পাড়া-মহল্লাভিত্তিক এজেন্ট রয়েছে। এসব এজেন্ট বিভিন্ন নামে গ্রুপ তৈরি করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। পলাশ গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ, আশিক বাহিনী, হুমা বাহিনী, টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ ও নাসিম গ্রুপ নামে পরিচিত এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের অনেকেই বি কোম্পানি বা নবাব বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুরো খুলনা নগরেই নবাব বা বাবু গ্রুপের আধিপত্য রয়েছে। নূর আজিম ও আশিক গ্রুপের তৎপরতা বেশি খুলনা সদর ও লবণচরা থানা এলাকায়। শাওন গ্রুপ সক্রিয় সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুর এলাকায়। আরমান গ্রুপ ও হুমা বাহিনী দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় তৎপর। নাসিম গ্রুপের প্রধান নাসিমুল গণি গত ৪ অক্টোবর দিঘলিয়া উপজেলায় গুলিতে নিহত হন। তবে তার গ্রুপের কর্মীরা এখনও মাঠে সক্রিয় আছেন।

খুলনা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, রূপসা, তেরখাদা, বটিয়াঘাটা, কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত। তাদের কেউ কেউ নিজেদের নবাব বাহিনীর সদস্য বলেও পরিচয় দিতে শুরু করেছে। স্থানীয় আধিপত্য, জমি, ঘের, বালুর ব্যবসা, পরিবহন ও ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দেয়। এতে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটছে। আবার চাঁদা চেয়ে না পেয়ে সাধারণ মানুষকেও গুলি করে হত্যা করছে তারা।

যেভাবে বিস্তার অপরাধী গোষ্ঠীর

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পলাশ গ্রুপের প্রধান শেখ পলাশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তার উত্থান ঘটে। খুলনা-২ আসনের তৎকালীন এক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন পলাশ। একপর্যায়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। ২০১৫ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন তিনি। পরে আবার জামিনে ছাড়া পান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খুলনার মিস্ত্রিপাড়া, বানরগাতি, আরামবাগ, নিরালা, পশ্চিম বানিয়াখামার, রূপসা বাগমারা ও সোনাডাঙ্গা এলাকায় পলাশের বাহিনী চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গ্রেনেড বাবুর সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ যৌথ বাহিনী খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে শেখ পলাশ ও তার ১০ সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। এরপর থেকে পলাশ কারাগারে রয়েছেন। তবে তার বাহিনীর অনেক সদস্য এখন নূর আজিম ও আশিক গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা।

গ্রেনেড বাবুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরসহ অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে। নূর আজিম ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আটক হন। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে জামিনে মুক্তির পর তিনি আবার সক্রিয় হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, মাদক কারবারে যুক্ত অপরাধী চক্র মাদক বিক্রেতা ও সহযোগীদের মোটরসাইকেল, মাসিক বেতন, কমিশন এবং অস্ত্রের জোগান দেয়। এতে অপরাধীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশের ভাষ্য, খুলনা নগরে এখনও অন্তত ৩০০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এসব গ্রুপের কাছে।

পুলিশের ভাষ্য, নূর আজিম ও গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। এক গ্রুপ চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে অন্য গ্রুপের নামও ব্যবহার করছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনা তদন্ত করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ২২ অক্টোবর গুলিতে নিহত তাওহিদুল ‘পলাশ গ্রুপের’ সদস্য ছিলেন। মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই গ্রুপের সঙ্গে বি কোম্পানির ব্লেড বাবুর বিরোধ ছিল। অন্যদিকে খুশি আক্তার ব্লেড বাবুর স্ত্রী। তিনি বি কোম্পানির হয়ে মাদক বিক্রি করেন।

তাওহিদুল হত্যাকাণ্ডে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এজাহারে বি কোম্পানির সদস্য শহিদুল ইসলাম ওরফে সেজান, সাকিবুর রহমান ওরফে জিতু এবং রাব্বি চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুশি হত্যাকাণ্ডে তার বোন হাসি আক্তার বাদী হয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।

নগর ও জেলায় ১০ মাসে ৬৯ হত্যা মামলা

খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে নগর এলাকায় ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন। এর আগে ২০২১ সালে ১৫টি, ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ১৭টি, ২০২৪ সালে ২৯টি এবং ২০২৫ সালে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছিল।

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ৩৫টি হত্যা মামলা হয়েছে। ২০২১ সালে ৩০টি, ২০২২ সালে ২২টি, ২০২৩ সালে ২১টি, ২০২৪ সালে ৩১টি এবং ২০২৫ সালে ৪৯টি হত্যা মামলা হয়েছিল। এসব হত্যাকাণ্ডের বাইরে অন্তত ৩০টি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

কেএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নগরের ৩৪টি হত্যা মামলার মধ্যে ১৪টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গুলিতে। এসব হত্যার পেছনে মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে জেলায় ৩৫টি হত্যা মামলার মধ্যে ৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গুলিতে। এর মধ্যে ছয়টি হত্যায় অপরাধীদের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

অস্ত্র উদ্ধার বাড়লেও কমছে না গুলির ঘটনা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কেএমপি এলাকায় ২৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। ২০২৫ সালে উদ্ধার হয় ৪৭টি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৩৩টি গুলি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৩০টি বিদেশি পিস্তল ও সাতটি বিদেশি রিভলবার রয়েছে। এসব ঘটনায় অস্ত্র আইনে ৪৩টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন ৭৫ জন।

জেলা পুলিশ চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৩টি গুলি উদ্ধার করেছে। এসব ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ৩৮ জনকে। তবে এখনও তিন শতাধিক অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর কাছে রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কোন বাহিনীর কাছে কতটি অস্ত্র আছে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ। 

কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের তাগিদ

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শান্তির শহর খুলনায় মানুষ শান্তিতে নেই। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কারণে সবার মধ্যে একধরনের ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। মানুষের কথার আগে গুলি চলছে। শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশ, সরকারি কর্মচারী, সাধারণ মানুষ—সবার মধ্যে একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তবেই এই সন্ত্রাসের রাজত্ব থেকে মুক্তি মিলবে।’

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘কিশোর গ্যাং, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে না পারায় খুলনায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আমার দলের লোকজনও আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু পুলিশ কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না। একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে প্রতিদিন।’

যা বলছে পুলিশ

খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‌‘বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে মাদক নিয়ে বিরোধ। তবে পুলিশ তালিকাভুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবার বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতে চায় না।’

খুলনার জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৬ অক্টোবর থেকে জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও এসআরবির যৌথ বিশেষ অভিযান এবং ব্লক রেইড জোরদার করা হয়েছে। গুলির ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’