নদী খননের পর ঝুঁকিতে আবাসনের ঘর, আতঙ্কে ৪ পরিবার

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর ভেঙে ভদ্রা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঘরটি নদীতে ধসে পড়ে। এতে ঘরহারা হয়েছেন মনিরা বেগম। এদিকে প্রকল্পের আরও চারটি ঘর নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ঘরে বসবাস করছেন রওশনারা বেগম, ফরিদা বেগম, বিল্লাল হোসেন গাজী ও আব্দুর রশিদ গাজী।

ঘর হারানো মনিরা বেগমকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ইতিমধ্যে অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঝুঁকিতে থাকা অন্য চার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ঘরগুলোর পেছনে পাইলিং করে নদীভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁঠালতলা বাজারের কাছে ভদ্রা নদীর তীরে গৃহহীন মানুষের বসবাসের জন্য আবাসন প্রকল্পের আওতায় ২৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে নদীটির তীরঘেঁষে খননকাজ করা হয়। এতে ঘরগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে। খননকাজ শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ঘর ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে একটি ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। আরও চারটি ঘর যেকোনও সময় নদীতে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

ঝুঁকিতে থাকা রওশনারা বেগম, ফরিদা বেগম, বিল্লাল হোসেন গাজী ও আব্দুর রশিদ গাজী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতে ঘরে ঘুমাতে হয়। কখন যে মনিরা বেগমের ঘরের মতো আমাদের ঘরগুলোও নদীতে ভেঙে পড়ে, সেই আতঙ্কে থাকি। ঘরগুলোর পেছনে পাইলিং করে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নিতে সংসদ সদস্য আলহাজ মোহাম্মদ আলী আসগার লবি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

ঘর হারানো মনিরা বেগম বলেন, ঘরঘেঁষে নদী খনন করায় আগে থেকেই ভাঙনের ঝুঁকি ছিল। কিন্তু ঘর রক্ষায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩০ অক্টোবর রাতে আমার ঘরটি নদীতে ভেঙে পড়ে। এখন থাকার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেল রানা বলেন, কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পে মনিরা বেগমের একটি ঘর নদীতে ভেঙে পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে তাকে অন্য একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর নদীতে ভেঙে পড়ার বিষয়টি তিনি জানেন। সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদীর ৮১ কিলোমিটার খনন প্রকল্প নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ভদ্রা ও হরি নদীও খনন করা হয়। এসব নদীর তীরে রয়েছে সরকারের আবাসন প্রকল্প।

২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর চর ভরাট করে গৃহহীন ও বাস্তুহারা মানুষের জন্য এসব আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। এতে শতাধিক অসহায় পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়। তবে প্রবহমান নদীর চরে অপরিকল্পিতভাবে ঘর নির্মাণের কারণে নদীর সীমানা সংকুচিত হয়ে পড়ে। পরে নদী খননের সময় চুকনগর, কাঁঠালতলা ও বরাতিয়া এলাকার ১৩৯টি ঘর ভাঙনের হুমকিতে পড়ে।

ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী খনন প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে খননকাজের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় অভয়নগরের ভবদহ ২১ ভেল্ট স্লুইসগেট থেকে ডুমুরিয়ার কাশিমপুর পর্যন্ত ভদ্রা ও হরি নদীর ১৫ কিলোমিটার এবং কাশিমপুর থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত তেলিগাতী নদীর পাঁচ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হয়।

ম্যাপ অনুযায়ী খনন করতে গিয়ে কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের ২৬টি ঘরের পাশ দিয়ে নদী খনন করতে হয়। এতে ঘরগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজ শেষে ঘরগুলো রক্ষায় পাইলিংসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।