সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের বনবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর ছয়টি ঘর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন ধরে বসবাস না করা এবং বৈধ বরাদ্দপত্র ছাড়াই অন্যদের ঘরগুলো দখলে রাখার অভিযোগ পাওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলামের নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার ঘরগুলোতে তালা দিয়ে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘর দখল ও বিক্রিসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেন প্রকল্পের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজখবর নিয়ে ছয়টি ঘর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষে ঘরগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে নির্মিত বনবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এ ৫০টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ছয়টি ঘরের মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে সেগুলো ছেড়ে চলে যান। এরপর ঘরগুলো কিছুদিন তালাবদ্ধ ছিল। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ছয় ব্যক্তি সেখানে বসবাস শুরু করেন। একপর্যায়ে তারাও ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রহমত আলীর যোগসাজশে ঘরগুলো নিজেদের দাবি করে বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সেগুলো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সভাপতি আমজাদ হোসেনের নামে একটি ঘর বরাদ্দ থাকলেও তিনি পাঁচটি ঘর ব্যবহার করছেন এবং সাধারণ সম্পাদক রহমত আলীর নামে একটি ঘর বরাদ্দ থাকলেও তিনি দুটি ঘর দখলে রেখেছেন। প্রকল্পের কমিউনিটি সেন্টারের আসবাবপত্র বিক্রি এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বাসিন্দাদের হয়রানি করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় লোকজন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়, সব মিথ্যা। আমি একটি ঘর ব্যবহার করছি।’
উল্লাপাড়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার স্বর্ণালী আক্তার বলেন, ‘তাদের নামে ঘরের কোনও দলিল নেই। তারা বিনা অনুমতিতে সেখানে রয়েছেন। ইউএনওর মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিনে গিয়ে ঘরগুলো আমাদের তত্ত্বাবধানে নিয়েছি।’
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে খোঁজ নিতে সার্ভেয়ারকে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকজনের নামে ঘর বরাদ্দের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ছয়টি ঘর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে ঘরগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’